ইরানি সংসদ সদস্যদের আহ্বান
হোয়াইট হাউস পর্যন্ত যেন পৌঁছাতে পারে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র

সংগৃহীত ছবি
ইরানের একদল সংসদ সদস্য দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও সক্ষমতা বাড়িয়ে এমন পর্যায়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তা যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। প্রেস টিভি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
প্রতিবেদন বলছে, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিতে এই আহ্বান জানান সংসদ সদস্যরা। চিঠিতে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডারদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তারা।
চিঠিতে আইনপ্রণেতারা বলেন, ‘আমরা আমাদের সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখব, যতদিন না আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা খামেনির হত্যাকারীদের অফিস পর্যন্ত পৌঁছায়।’
তারা আরও বলেন, যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ না রেখে হরমুজ প্রণালীর অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনার বিরোধিতা, যুদ্ধজনিত ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দাবি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে হামলা ঠেকাতে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
চিঠিতে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি জেসিপিওএ-এর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ওপর আর আস্থা রাখা সম্ভব নয়।
এ ছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও অন্যান্য ভুক্তভোগীদের হত্যাকারী, কমান্ডার এবং সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান আইনপ্রণেতারা।
তাদের বক্তব্যে প্রয়াত কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, ‘এপস্টেইন নেটওয়ার্কের অপরাধীরা কোনো নৈতিক বা আন্তর্জাতিক নীতিমালা মানে না।’ তারা আরও বলেন, ‘শত্রুদের জানা উচিত, চোখের বদলে চোখ যথেষ্ট নয়, মাথা নেওয়া হবে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে সংসদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ও কমিটি বৈঠক দ্রুত পুনরায় শুরু করা প্রয়োজন, যাতে আইনসভা তার তদারকি ও আইন প্রণয়নের ভূমিকা আরও কার্যকরভাবে পালন করতে পারে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর তারা ‘নতুন যুদ্ধক্ষেত্রীয় নিয়ম’ প্রতিষ্ঠা করেছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে।
এদিকে আইআরজিসি বলেছে, দেশের জনগণের উপস্থিতি তাদের ‘যুদ্ধক্ষেত্রের মেরুদণ্ড’ এবং ‘কূটনীতির শক্তিশালী ভিত্তি’ হিসেবে কাজ করছে।




