ওবামাকেয়ারের ৫০০ ডলার ফেরত পাবেন গ্রাহকরা

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন (Affordable Care Act) পরিচিত ‘ওবামাকেয়ার’ নামে। এর আওতায় ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা কিনেছিল অসংখ্য মানুষ। তাদের প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার জনকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। অক্টোবর থেকে যোগ্য গ্রাহকদের কাছে এই অর্থ পাঠানো শুরু হওয়ার কথা। ৩০টি অঙ্গরাজ্যের গ্রাহকেরা পাবেন এই অর্থ।
তবে ওবামাকেয়ারে নাম থাকলেই সবাই এই অর্থ পাবেন না। মূলত যারা ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা কিনেছেন এবং প্রিমিয়ামের জন্য সরকারি ভর্তুকি পাননি, তাদের একটি অংশ এই অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য যোগ্য হয়েছেন। যাদের পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৪০০ শতাংশের বেশি, তাদের বড় একটি অংশ এই অর্থ পাওয়ার আওতায় রয়েছেন। ১০০ থেকে ৪০০ শতাংশের মধ্যে আয় রয়েছে, এমন কিছু গ্রাহকও যোগ্য হতে পারেন।
কেন ৫০০ ডলার ফেরত?
এই অর্থ ফেরত দেওয়ার পেছনে রয়েছে ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য বীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ব্যবহার ফি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র প্রতিবছর স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থায় অংশ নেওয়া বীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রিমিয়ামের একটি নির্দিষ্ট অংশ ফি হিসেবে নেয়। এই অর্থ ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থা পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট সেবায় ব্যয় করা হয়।
হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, আগের প্রশাসনের সময়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ফি আদায় হওয়ায় কয়েকশ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত রয়ে গেছে। বর্তমান প্রশাসন সেই অর্থের একটি অংশ যোগ্য গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, উদ্বৃত্ত অর্থকে সরাসরি গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। ফি থেকে উদ্বৃত্ত তৈরির পেছনে ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থা পরিচালনার ব্যয় এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে পরিবর্তনের বিষয়ও রয়েছে।
কারা পাবেন, কারা পাবেন না?
এই অর্থ ফেরত কর্মসূচির আওতায় রয়েছে আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, উটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং। এসব অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। নিজেদের স্বাস্থ্যবিমা বাজার পরিচালনা করা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা এই নির্দিষ্ট অর্থ ফেরত কর্মসূচির আওতায় নেই।
প্রশাসনের হিসাবে, টেক্সাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন। সেখানে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার মানুষ ৫০০ ডলার করে ফেরত পাবেন। এরপর ফ্লোরিডায় প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯০০ এবং ওহাইওতে প্রায় ৬৫ হাজার ৭০০ মানুষ এই অর্থ পাওয়ার কথা।
চেকের সঙ্গে যাচ্ছে ট্রাম্পের চিঠি
যোগ্য ব্যক্তিদের আগেই চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে এই ৫০০ ডলার পাওয়ার জন্য নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। কোনো পরিবারের একাধিক সদস্য যোগ্য হলে একাধিক ৫০০ ডলারের অর্থও পাওয়া যেতে পারে। অর্থ ফেরতের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা একটি চিঠিও পাঠানো হচ্ছে। সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ এখন গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
আগের ভর্তুকির সঙ্গে পার্থক্য
এই অর্থ ফেরতকে ওবামাকেয়ারের নিয়মিত স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার সুযোগ নেই। এটি মাসিক প্রিমিয়াম কমানোর নিয়মিত ভর্তুকি নয়। বরং ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থার ব্যবহার ফি থেকে তৈরি উদ্বৃত্ত অর্থের একটি অংশ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ।
এদিকে ২০২৫ সালের শেষে বর্ধিত প্রিমিয়াম কর-ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৬ সালে অনেক গ্রাহকের স্বাস্থ্যবিমার নিজস্ব খরচ বেড়েছে। ফলে ৫০০ ডলারের এই অর্থ কিছু পরিবারের জন্য সাময়িক আর্থিক সহায়তা হলেও এটি ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম কমাবে না।
২০২৭ সালের চূড়ান্ত নিয়মে ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থার ব্যবহার ফি ২০২৬ সালের ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। এই ফি স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থা পরিচালনার অর্থায়নের একটি অংশ।
তাই নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের হাতে ৫০০ ডলার করে অর্থ গেলেও শুধু ওবামাকেয়ারে নাম থাকলেই এই অর্থ পাওয়া যাবে না। অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে গ্রাহকের অঙ্গরাজ্য, স্বাস্থ্যবিমার ধরন এবং আগে কোনো সরকারি প্রিমিয়াম সহায়তা পেয়েছেন কি না, তার ওপর।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র, রয়টার্স




