যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালত
ট্রাম্পকে দিতেই হবে ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ

২০২৪ সালে মামলা চলাকালে আদালতে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সাংবাদিক ই জিন ক্যারলের করা দেওয়ানি মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় বহাল রেখেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার (২৯ জুন) ট্রাম্পের আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান আদালত। ফলে কার্যকর থাকছে জুরিবোর্ডের দেওয়া ক্ষতিপূরণের রায়।
প্রথা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট তাদের সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেননি। এ ছাড়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো বিচারকের ভিন্নমতও নথিভুক্ত হয়নি।
ট্রাম্পের আইনজীবীদের দাবি, এমন কিছু ‘অত্যন্ত উস্কানিমূলক’ তথ্য গ্রহণ করেছিলেন বিচারক, যার প্রভাবেই এমন রায় দিয়েছেন জুরি। এসব তথ্যের মধ্যে আরও দুই নারীর সাক্ষ্য ছিল, যারা কয়েক দশক আগে একই ধরনের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। তবে শুরু থেকেই তিন নারীর সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের আইনি দল আরও দাবি করে, কেন্দ্রীয় সাক্ষ্য আইন লঙ্ঘন করেছেন মামলার বিচারক লুইস কাপলান। তাদের মতে, এ মামলার আইনি প্রক্রিয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছে।
আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ট্রাম্পের আইনজীবী জাস্টিন ডি. স্মিথ লিখেছেন, ‘একজন প্রেসিডেন্টের প্রতি এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই বহাল থাকতে দেওয়া যায় না।’ উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে তাকে একটি আপিল আদালতের বিচারক হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে আদালতকে মামলাটি পুনর্বিবেচনা না করার আহ্বান জানান ক্যারলের আইনজীবীরা। তাদের যুক্তি ছিল, অন্য ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অভিযোগগুলোর ধরন ছিল প্রায় একই। ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান মন্তব্য করেন, ‘এই বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার মোটেও যোগ্য নয়।’
২০২৩ সালে বিচার চলাকালে সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক ও কলামিস্ট ই জিন ক্যারল আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, ১৯৯৬ সালে ম্যানহাটনের একটি বিলাসবহুল বিপণিবিতানের ড্রেসিংরুমে তাকে যৌন নিপীড়নের শিকার করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই মামলায় ২০২২ সালে ক্যারলকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলায় ট্রাম্পকে মানহানির জন্যও দায়ী করেন জুরিবোর্ড।
এর পর দ্বিতীয় একটি মানহানি মামলায় ক্যারলকে আরও ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন জুরি। ওই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করেছেন ট্রাম্প। তবে সেটি এখনো সুপ্রিম কোর্টে ওঠেনি।
এর আগে তার বিরুদ্ধে হওয়া একাধিক বড় রায়ে আপিলে সাফল্য পেয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে নিউইয়র্কের একটি দেওয়ানি জালিয়াতি মামলায় ৫০ কোটি ডলারের বেশি জরিমানার রায় আপিলে বাতিল হওয়া উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে ফৌজদারি বিচার থেকে আংশিক দায়মুক্তিও পান তিনি। তবে এবার যৌন নিপীড়ন মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তার আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকল।




