এবার নিউ মেক্সিকোর নাম ‘নিউ আমেরিকা’ করার প্রস্তাব ট্রাম্পের

ট্রুথ সোশ্যাল থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট
লেকের পর এবার এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রবিবার নিউ মেক্সিকোর নাম ‘নিউ আমেরিকা’ করার প্রস্তাব দেন তিনি। ট্রাম্পের এমন পোস্টের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অঙ্গরাজ্যটির ডেমোক্র্যাট নেতারা। তারা বলছেন, নিউ মেক্সিকো নামটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অঙ্গরাজ্যটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রজন্মের স্মৃতি। ভৌগোলিক বিভিন্ন স্থানের নামের সঙ্গে আমেরিকান পরিচয় জুড়ে দেওয়ার ট্রাম্পের সর্বশেষ প্রচেষ্টা এটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প নিউ মেক্সিকোর একটি মানচিত্রের ছবি শেয়ার করেন। সেখানে ‘মেক্সিকো’ শব্দটির ওপর লাল রঙের ‘ক্রস’ চিহ্ন দেওয়া এবং তার জায়গায় ‘আমেরিকা’ লেখা ছিল। এর কিছুক্ষণ পর হোয়াইট হাউসও তাদের অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে ছবিটি পুনরায় শেয়ার করে।
কয়েক ঘণ্টা পর আবারও একটি পোস্ট দেন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তাকে ‘নিউ মেক্সিকোতে স্বাগতম’ লেখা একটি সড়কচিহ্নের ওপর ‘আমেরিকা’ লেখা একটি লেবেল বসাতে দেখা যায়। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও বলে মনে হয়েছে।
ট্রাম্প প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তার কথিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিয়ে বিদ্রূপ করেন। তার এসব পোস্ট দ্রুতই নিউ মেক্সিকোর কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখে পড়ে। অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতাসীন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম লিখেছেন, ‘নিউ মেক্সিকোর নাম নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই—যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বেরও আগে থেকে এই নাম আমাদের।’
প্রতিনিধি মেলানি স্ট্যান্সবেরি আরও কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। এক্সে তিনি লেখেন, ‘ওহ, কোনোভাবেই না!’ এরপর তিনি বললেন, ‘আমাদের অঙ্গরাজ্যের নামের সঙ্গে প্রজন্মের পর প্রজন্মের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিবারের স্মৃতি জড়িয়ে আছে—এটি আমাদেরই।’
নিউ মেক্সিকো নামটির উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও আগের। ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ শতকে মেক্সিকোর মানুষ রিও গ্রান্ডে নদীর উত্তর ও পশ্চিমের অঞ্চলকে ‘নিউ মেক্সিকো’ নামে অভিহিত করত।
নিউ মেক্সিকোর দুই ডেমোক্র্যাট সিনেটরও জানিয়েছেন ট্রাম্পের পোস্টের প্রতিবাদ।
সিনেটর মার্টিন হেইনরিখ এক্সে লেখেন, ‘তিনটি জিনিসকে আমি সব সময় তাদের প্রকৃত নামেই ডাকব...’ এরপর তিনি গালফ অব মেক্সিকো, লেক অন্টারিও এবং নিউ মেক্সিকোর নাম উল্লেখ করেন।
গত বছর ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার দিনই একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে ফেডারেল সরকারকে গালফ অব মেক্সিকোর নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই মাসে তিনি বলেছিলেন, নামটির ‘একটি সুন্দর ধ্বনি’ রয়েছে।
গত মাসে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ বাড়তে থাকার মধ্যে ট্রাম্প আরেকটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেন। ওই আদেশে স্বাক্ষরের কয়েক দিন আগে তিনি লেক অন্টারিওর একটি মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন। সেখানে লেকটির নামের ওপর লাল ‘ক্রস’ চিহ্ন দেওয়া ছিল। একই সঙ্গে তিনি একটি এআই ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে তাকে লেক অন্টারিওর একটি সাইনবোর্ড বদলে ‘লেক আমেরিকা’ লিখতে দেখা যায়।
তবে ওই নির্বাহী আদেশগুলো ভৌগোলিক স্থানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, কোনো অঙ্গরাজ্যের আইনি নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নয়। এসব পরিবর্তন ফেডারেল জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে কার্যকর করা হয় এবং কেবল ফেডারেল পর্যায়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—যেমন মানচিত্র ও সরকারি নথিতে। তবে এগুলো অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার কিংবা বেসরকারি মানচিত্র প্রস্তুতকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
কোনো অঙ্গরাজ্যের আইনি নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া কতটা ভিন্ন হতে পারে, তার সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ রোড আইল্যান্ড। ২০২০ সালের জুনে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর দেশজুড়ে কাঠামোগত বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে অঙ্গরাজ্যটি তার আনুষ্ঠানিক নাম থেকে ‘অ্যান্ড প্রভিডেন্স প্ল্যান্টেশনস’ অংশটি বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
তৎকালীন ডেমোক্র্যাট গভর্নর জিনা রাইমন্ডো নির্বাহী বিভাগের নথি ও ওয়েবসাইট থেকে ওই বাক্যাংশ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছিলেন, অঙ্গরাজ্যের সরকারি নাম পরিবর্তন করতে হলে রোড আইল্যান্ডের সংবিধান সংশোধনে ভোটারদের অনুমোদন প্রয়োজন। ওই বছরের শরতে ভোটাররা পরিবর্তনটির অনুমোদন দেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস






