লেক অন্টারিও এখন ‘লেক আমেরিকা’, ট্রাম্পের নাম বদলের ধাক্কা গুগল ম্যাপে

ছবি: গুগল ম্যাপ থেকে
ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ধাক্কা এবার পড়ল মানচিত্রেও। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ দেখানো শুরু করেছে গুগল ম্যাপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হ্রদটির নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার পর এ পরিবর্তন আনা হয়। কানাডায় অবশ্য আগের নামই দেখা যাবে। এ নিয়ে দুই দেশের এই উত্তেজনাকে ‘সম্পূর্ণ পশ্চাৎমুখী’ বলে সমালোচনা করেছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড।
১৭ শতক থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসা এই নামটির সঙ্গে আদিবাসী ঐতিহ্যের যোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই নাম নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধও তীব্র হয়েছে। দুই দেশই একে অপরের পণ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছে।
গুগল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক নামের সরকারি তথ্যভান্ডার ‘ইউএস জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম’ (জিএনআইএস) অনুসরণ করেই নামটি পরিবর্তন করেছে তারা।
গুগল তাদের ব্লগে বলেছে, ‘সরকারি উৎসে কোনো ভৌগোলিক নাম পরিবর্তন হলে আমরা সেই পরিবর্তন অনুযায়ী গুগল ম্যাপস হালনাগাদ করি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সেই সরকারি উৎস হলো জিএনআইএস। তাই যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাপস ব্যবহারকারীরা ‘লেক আমেরিকা’ নামটি দেখতে পাবেন, কানাডার ব্যবহারকারীরা ‘লেক অন্টারিও’ নামটিই দেখতে পাবেন। আর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাইরে থাকা ব্যবহারকারীরা দুটি নামই দেখতে পাবেন।’
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প একতরফাভাবে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, এই পরিবর্তনও তারই পুনরাবৃত্তি। মেক্সিকোও ওই নাম পরিবর্তন প্রত্যাখ্যান করেছে।
আয়তনের দিক থেকে পাঁচটি গ্রেট লেকের মধ্যে সবচেয়ে ছোট লেক অন্টারিও। কানাডার অন্টারিও প্রদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সীমান্তজুড়ে থাকা এই হ্রদটি দুই দেশের সীমানা অতিক্রম করেছে।
এবিসির টক শো ‘দিস উইক’-এ ডগ ফোর্ড বললেন, ‘এটা সম্পূর্ণ পশ্চাৎমুখী। তিনি যখন একটি নথিতে স্বাক্ষর করে নামটি ‘লেক আমেরিকা’ করলেন, তখন পুরো বিষয়টি (মার্কিন কমেডি অনুষ্ঠান) ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’-এর কোনো দৃশ্যের মতো মনে হচ্ছিল। কেউই এটিকে লেক অব আমেরিকা বলবে না।’
তিনি আরও বললেন, ‘এটা সত্যিই হতাশাজনক।’
ফোর্ড সতর্ক করেন, বাণিজ্যযুদ্ধে দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ায় দেশটির গাড়ি কেনা বন্ধ হয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রই ‘নিশ্চিতভাবে ভয়াবহ’ ক্ষতির মুখে পড়বে। এতে মার্কিন গাড়ি কারখানাগুলো বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।
তার ভাষ্য, ‘কানাডার ওপর শুল্ক আরোপ আসলে মার্কিন জনগণের ওপরই কর চাপানো। আপনি এর চেয়ে খারাপ কোনো পদক্ষেপ সম্ভবত নিতে পারবেন না।’
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি উৎপাদন খাত গভীরভাবে পরস্পরনির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি গাড়ির উল্লেখযোগ্য অংশের যন্ত্রাংশ কানাডায় তৈরি হয়।
ট্রাম্পও রবিবার এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, মার্কিনরা ‘নিজেদের গাড়ি নিজেরাই তৈরি করতে চায়।’
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘কানাডা বছরের পর বছর ধরে আমাদের ঠকিয়েছে—আর নয়!’
সূত্র: এনডিটিভি







