যুদ্ধের ধাক্কায় অস্ত্রভাণ্ডারে টান, উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ পেন্টাগনের

ছবি: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে এবার সরাসরি চাপ পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারে। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের ফলে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে আসায় দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে পেন্টাগন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান যুদ্ধের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অস্ত্র উৎপাদনে ‘জরুরি গতি’ চায় পেন্টাগন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতি দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। মূল লক্ষ্য—যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের কারণে কমে যাওয়া অস্ত্রের মজুত দ্রুত পুনর্গঠন করা।
বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—আধুনিক যুদ্ধ শুধু সামরিক শক্তির নয়, বরং দ্রুত অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতারও পরীক্ষা।
কমছে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত
সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (CSIS) হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ২,২০০টি Patriot interceptor থাকলেও পরে সেই সংখ্যা ৮২৭-এর নিচে নেমে যেতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। একইভাবে THAAD ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও ৪৫২ থেকে ২৭৮-এর নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এর অর্থ, যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে এখন একই সঙ্গে ভাবতে হচ্ছে—পরবর্তী সংঘাতের জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র হাতে থাকবে কি না।
শুধু ইরান নয়, ভবিষ্যৎ সংঘাত নিয়েও উদ্বেগ
পেন্টাগনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন শুধু ইরানের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নয়। বিশ্বের অন্য কোনো অঞ্চলে একই সময়ে বড় ধরনের সামরিক সংকট তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র কত দ্রুত প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ করতে পারবে—সেটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কারণ আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে বিমান প্রতিরক্ষা ও নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত মজুত কমিয়ে দিতে পারে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতাও কৌশলগত সম্পদে পরিণত হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা শিল্পে বাড়তে পারে বিনিয়োগ
অস্ত্রের ঘাটতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সামনে এখন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, সরবরাহ-শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের সরবরাহ নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগও এখানে সামনে এসেছে—যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থাকলেও যুদ্ধকালীন চাহিদার তুলনায় দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো সবসময় সহজ নয়।ইরান যুদ্ধ সেই সীমাবদ্ধতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
ইরান যুদ্ধের ময়দানে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে অস্ত্রের মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধের পাশাপাশি দ্রুত অস্ত্রভাণ্ডার পূরণ করতে পারবে কি যুক্তরাষ্ট্র—এখন সেটিই পেন্টাগনের বড় প্রশ্ন।





