হরমুজ প্রণালি খুলতে কী শর্ত দিল ইরান?

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক নতুন শর্ত দিয়েছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক নতুন শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ সংশোধন না করা পর্যন্ত খুলবে না হরমুজ প্রণালি।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘদর এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে আর কখনো ইরানকে হুমকি দেওয়া যাবে না। দেশটিকে ইরানের বিরুদ্ধে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে স্থায়ীভাবে। একই সঙ্গে তুলে নিতে হবে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা নৌ অবরোধ এবং ওই অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করতে হবে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ইরানের দাবি, যুদ্ধের কারণে দেশটির যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে কোনো শর্ত ছাড়াই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে জোলঘদরের এই বক্তব্য। তিনি প্রভাবশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একজন কমান্ডারও।
ইরানের নতুন শর্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হরমুজ প্রণালি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতার পর নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলে জানা গেছে একাধিক প্রতিবেদনে।
এর আগে ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে তারা। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই জলপথটি যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
মধ্যস্থতাকারী উপসাগরীয় দেশ ওমান শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয় বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অংশ হিসেবে ওই জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, শনিবার ভোরের ওই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় তাদের এক ডজনের বেশি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এসব হামলায় একজন নাবিক নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।
তবে হামলাটি ঠিক কোথায় ঘটেছে বা জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি কোম্পানিটি।
পরে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা কেন্দ্র জানায়, ওমানের খাসাব শহরের পূর্বে একটি জাহাজে কোনো একটি বস্তু আঘাত হানলে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জাহাজ ও এর নাবিকেরা নিরাপদে রয়েছেন। তবে এটি আমিরাতের ওই জাহাজে হামলার একই ঘটনা কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।






