ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কি-নেতানিয়াহুর বৈঠক
- বৈঠক দুটিকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ দাবি হোয়াইট হাউসের
- প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে কিয়েভকে লাইসেন্সের আশ্বাস
- ‘অন্যতম সেরা আলোচনা’ দাবি নেতানিয়াহুর
- মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আকস্মিক হামলা, প্রতিহতের দাবি যুক্তরাষ্ট্রে
- ইরাকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর ওপর সৌদি জোটের হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ছবি : রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠক দুটিকে হোয়াইট হাউস ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছে।
ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক এবং ইউক্রেনকে মার্কিন সহায়তার বাড়ানোর মূল কারিগর সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দুই নেতা ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে তার মৃত্যু হয়।
জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের আলোচনায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রত্যাশা গুরুত্ব পায়। অন্যদিকে, ইরান নিয়ে দুই দেশের ভিন্নমতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে টানাপোড়েনের সময় ওয়াশিংটনে যান নেতানিয়াহু।
সফরের আগে ধারণা করা হয়েছিল, চলতি মাসের ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের জন্য তিনি চাপ দেবেন।
ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছে। দেশটির দাবি, রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইউক্রেনের শহরগুলো রক্ষায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
বৈঠকের পর ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে সংক্ষিপ্ত পোস্টে লিখেছেন, ‘বৈঠকটি খুব ভালো হয়েছে!’
যদিও ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, জেলেনস্কি বলেছেন, ট্রাম্প ইউক্রেনকে দেশে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দিতে সম্মত হয়েছেন।
ফক্স নিউজকে জেলেনস্কি বলেছেন, ‘তিনি আমাদের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি গ্রহণ করেছেন।’ এরপর যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ‘আমি আশা করি, আমরা যৌথভাবে উৎপাদন করতে পারব।’
জেলেনস্কি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি দ্বিদলীয় দলের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এর আগে সিনেট বিপুল ভোটে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ক্রেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে ভোট দেয়। জেলেনস্কি বলেছেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ‘ইউরোপের জন্য বড় বার্তা, ইউক্রেনের জন্য বড় বার্তা এবং আমাদের জনগণের জন্য বড় সমর্থন’।
প্যাট্রিয়ট বিশ্বের কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারে। রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোতে হামলায় এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে। প্যাট্রিয়ট ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারে। একটি ব্যবস্থা একসঙ্গে আটটি লক্ষ্য অনুসরণ এবং ১০০টির বেশি লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম আনুমানিক ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ডলার।
জেলেনস্কি ও ইউক্রেনের সেনাবাহিনী আগে জানিয়েছে, তাদের ২৫টি প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ইউক্রেনে প্যাট্রিয়টের নিজস্ব উৎপাদন দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর জেলেনস্কির জনপ্রিয়তাও শক্তিশালী করতে পারে।
তবে বড় প্রশ্ন হলো, ক্রেমলিনের নজর এড়িয়ে কোথায় এসব ব্যবস্থা উৎপাদন করা সম্ভব এবং সংঘাতের ভারসাম্য বদলানোর মতো দ্রুত তা করা যাবে কি না।
জেলেনস্কি চলে যাওয়ার পর মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে যান নেতানিয়াহু। বৈঠকে ইরান সংঘাত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরপর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘এটি খুব ভালো বৈঠক ছিল!’
নেতানিয়াহু ইসরায়েলি গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাদের মধ্যে ‘একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে বোঝাপড়া’ হয়েছে—ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা এবং আরও কিছু লক্ষ্য অর্জন করা। তিনি এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর ‘অন্যতম সেরা আলোচনা’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
বৈঠকের পর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের ওপর আকস্মিক হামলার চেষ্টা করেছিল। তবে সব ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন ও সৌদি বাহিনী পূর্ব ইরাকে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। এ বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।




