যুক্তরাষ্ট্রে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ৮ আত্মীয়কে গুলি করে হত্যা

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে স্বজনদের ওপর গুলি চালিয়ে দুই শিশুসহ আটজনকে হত্যা করেছেন এক ব্যক্তি। নিহতদের সাতজন হামলাকারীর আত্মীয়। অন্যজন ওই পরিবারের পরিচিত ছিলেন। পরে ৪৫ বছর বয়সী হামলাকারী নিজেও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটের দিকে এরি শহরের ইস্ট সেভেনথ স্ট্রিট ও পেরি স্ট্রিটের কাছের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করে।
নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছরের একটি ছেলে ও এক বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। এ ছাড়া ২৪ বছর বয়সী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী নিহত হয়েছেন। তার অনাগত সন্তানকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানিয়েছেন, গুলির শব্দ শনাক্তকারী ব্যবস্থা থেকে সতর্কবার্তা পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির ভেতর থেকে গুলির শব্দ শোনার পর ৫১ ও ৩৭ বছর বয়সী দুই নারী সেখানে যান। তারা দরজায় ধাক্কা দেন এবং আশপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হামলাকারী বাইরে এসে তাদের গুলি করেন। পরে আবার বাড়ির ভেতরে চলে যান।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির বাইরে ওই দুই নারীর মরদেহ পায়। পরে বাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে আরও ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিচতলায় পাঁচ বছরের ছেলে ও এক বছরের মেয়েটির মরদেহ পাওয়া যায়। দোতলার সিঁড়ির কাছে পাওয়া যায় ২৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারী, ৪৪ বছর বয়সী এক নারী এবং ১৯ ও ২১ বছর বয়সী দুই যুবকের মরদেহ।
দোতলায় হামলাকারীর মরদেহও পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, তিনি নিজেই নিজের শরীরে গুলি চালিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে তার নামে নিবন্ধিত একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে হামলাকারীসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশপ্রধান লোরাহ ঘটনাটিকে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এত প্রাণহানির ব্যাপকতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আটজন নিহত হন। পুলিশ পৌঁছানোর পর আর কোনো গুলি চালানো হয়নি। বাড়ির ভেতরে কেউ জীবিত আছেন কি না এবং হামলাকারী তখনো হুমকি কি না, তা নিশ্চিত হতে বিশেষ বাহিনী ও রোবট ব্যবহার করা হয়।
হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। নিহতদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো ঘটনার পর এরি শহরের মেয়র ডারিয়া ডেভলিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।




