আমি না থাকলে পৃথিবী থেকে ইসরায়েল মুছে যেত : ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প- রয়টার্স
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে সম্প্রতি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি বিশ্বের সব প্রভাবশালী নেতা, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ইত্যাদি বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। কখনো রসিকতা করেছেন, আবার কখনো নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে বাড়িয়েছে বলেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি না থাকত, তবে ইসরায়েল আজ পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যেত।’
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, আমাকে তাদের থামাতে হতোই। কারণ তারা যদি পারমাণবিক বোমার মালিক হতো, তবে নির্ঘাত সেটি ব্যবহার করত। আর আপনি যদি ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে চান, তবে ওদের দু-একটা শহরের ওপর বোমা ফেলতে দিন। যেমন ওরা ইসরায়েলকে উড়িয়ে দিত। আমি যদি আজ না থাকতাম, তবে পৃথিবীর বুকে ইসরায়েল নামে কোনো দেশের অস্তিত্বই থাকত না। কারণ আমিই বারাক ওবামার ওই পরমাণু চুক্তি বাতিল করেছিলাম, যা ছিল ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার রাজপথ।
ট্রাম্প দাবি করেন, ওটা বন্ধ না করলে ওরা পাঁচ বছর আগেই পারমাণবিক বোমার মালিক হয়ে যেত ইরান। বোমা পাওয়ার প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সেই বোমা ইসরায়েলের ওপর ব্যবহার করা হতো। তা করা হলে ইসরায়েল আজ আর থাকত না, বহু বছর আগেই শেষ হয়ে যেত।
রসিকতা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বললেন, তবে আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে যে তারা এত লম্বা সময় অপেক্ষা করল। আমি ক্ষমতায় ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে তারা। অবশ্য এটা ইচ্ছা করে করেনি। তারা ভাবতেই পারেনি যে আমি আবার ফিরে আসব। আসলে অনেকেই ভাবেনি। কারণ তারা সরকারি ক্ষমতাকে আমার বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। কিন্তু আমি প্রচণ্ড গর্জন নিয়ে ফিরে এসেছি। আর আমার মনে হয় এবারের ফেরাটা আগের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে খোঁচা মেরে ট্রাম্প বলেছেন, বাইডেন ছিলেন প্রবীণদের জন্য সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। কারণ আপনারা মিডিয়ার লোকেরা জনগণকে সঙ্গে সত্যিটা বলেননি। কিন্তু জনগণ নিজের চোখে সব দেখেছে। তিনি একটা আস্ত বিপর্যয় ছিলেন। আর জানেন তিনি সবচেয়ে খারাপ কী করেছে? মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশন চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। তবে ওটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতি ছিল না। কারণ আমি তো এই সমস্ত ভাঙাচোরা জিনিস উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। এখন বাজারের দামের দিকে তাকিয়ে দেখুন, জিনিসপত্রের দাম কমছে। তেলের দাম তো সত্যিই অনেক নিচে নেমে আসছে। আমাকে একদল অত্যন্ত অস্থির মেজাজের কিন্তু প্রচণ্ড বুদ্ধিমান মানুষকে থামাতে সামরিক অভিযান চালাতে হয়েছিল। আপনি জানেন ইরানিরা অত্যন্ত চতুর মানুষ। তারা একধরনের আদিম প্রতিভার অধিকারী, তবে তারা সত্যিই স্মার্ট।
ইরানিদের ব্যাপারে ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘আমরা যদি বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ওদের ওপর আঘাত না হানতাম, তবে ইসরায়েল আজ নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। ওদের কাছে যে পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল, ওরা পারমাণবিক বোমা বানানো থেকে মাত্র এক মাস দূরে ছিল। ওটা একদম হাতের নাগালে ছিল। আমরা আঘাত না করলে ওরা সহজেই বোমাটি বানিয়ে ফেলত। কিন্তু আমাদের বি-২ বোমারু বিমান এবং আমাদের দক্ষ পাইলটেরা নিখুঁতভাবে নিজেদের কাজ করেছে। ওই পর্বত কেটে বানানো পারমাণবিক ঘাঁটির ছাদ ধসে একদম মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
‘আমরা যদি তখন আঘাত না করতাম, তবে ওরা পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলত। ওটা নিশ্চিতভাবে ইসরায়েলের ওপর মারত। এমনকি ওরা ওটা সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত আর বাহরাইনের ওপরও ব্যবহার করত। কারণ এই যুদ্ধ যখন শুরু হলো, আমার সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল যে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই এই বাকি পাঁচটি দেশের দিকেও ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যেতে শুরু করল। আমি ভাবলাম, ওরা এমন বোকামি কেন করছে? আর জানেন তার ফল কী হলো? ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে এই পাঁচটি দেশ সরাসরি এসে আমার কোলে আশ্রয় নিল। তারা সত্যিই দারুণ সহযোগিতা করেছে,’ যোগ করেন ট্রাম্প।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক কেমন জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেছেন, নেতানিয়াহু আমার সঙ্গে খুব ভালো কাজ করেছেন। তবে তিনিও স্বীকার করবেন, আসল বন্দুকটা কিন্তু আমাদের হাতেই ছিল। পুরো চুক্তির চাবিকাঠি ছিল আমাদের কাছে। বি-২ বোমারু বিমানও ছিল আমাদের। ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি না থাকত, তবে ইসরায়েল আজ পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যেত।





