অ্যাক্সিওসের সাক্ষাৎকার
‘লোকটা একটা বিপর্যয় ছিল’ বাইডেনের উদ্দেশে ট্রাম্প

সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প- অ্যাক্সিওস
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অ্যাক্সিওসের মার্ক কাপুটো। সেখানে ক্ষমতা সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেছেন ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারের কিছু চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-
মার্ক কাপুটো : প্রেসিডেন্ট, আপনাকে অ্যাক্সিওস শো-তে স্বাগতম।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প : ধন্যবাদ।
কাপুটো : আমরা গতানুগতিক ইন্টারভিউ না করে সাধারণ আড্ডা দিতে চাই। আমরা হুটহাট এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে চলে যাব না। আর এক্সিওস সাধারণত একটি বড় বিষয় নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করে। তাই আজকে আমরা যে ‘বড় বিষয়টি’ নিয়ে কথা বলতে চাই, তা হলো ‘ক্ষমতা’। আপনি ক্ষমতাকে কীভাবে দেখেন এবং কীভাবে তা প্রয়োগ করেন, সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। এক দশক আগে আপনি প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। তারপর থেকে আপনার ঝুলিতে প্রচুর অভিজ্ঞতা। এই দীর্ঘ সময়ে ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আপনি সবচেয়ে বড় কোন জিনিসটি শিখলেন?
ট্রাম্প : দেখুন, আমার মনে হয় ক্ষমতা খুব বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হয়। অভিজ্ঞতা থাকা অবশ্যই ভালো। তবে আমি সবসময় বলি সুপ্ত প্রতিভা বা সম্ভাবনা অভিজ্ঞতার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কথায়, অভিজ্ঞতা থাকার চেয়ে নিজের ভেতর যোগ্যতা বা সক্ষমতা থাকাটা অনেক বেশি জরুরি। তবে যদি কারও মধ্যে এই দুটিই থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। এটি খুব দারুণ ব্যাপার। প্রথম মেয়াদে আমি অনেক কিছু শিখেছি। এই তো সেদিন আমাকে একজন বলছিলেন— কারণ আপনি তো জানেনই যে আমাদের এবারের জি-৭ সম্মেলনটা চমৎকার ছিল। সেখানে আমরা বেশ আধিপত্য বজায় রেখেছিলাম। আমি যা চেয়েছি, তা-ই হাসিল করেছি। তো সেদিন একজন আমাকে বললেন, প্রথম মেয়াদের চেয়ে আপনার এবারের প্রশাসন বা এই মেয়াদটি অনেক বেশি শক্তিশালী। অথচ আমাদের প্রথম মেয়াদটাও কিন্তু বেশ ভালো ছিল। জানেনই তো, আমাদের অর্থনীতি তখন সবচেয়ে চাঙ্গা ছিল। অনেক ভালো ভালো ঘটনা ঘটছিল। সামরিক বাহিনীকে নতুন করে গড়ে তুলেছিলাম। আমরা সত্যিই ভালো কাজ করেছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয় প্রথম মেয়াদের চেয়ে এবারের মেয়াদটি অনেক বেশি শক্তিশালী। এটা যেমন অভিজ্ঞতার কারণে হয়েছে, তেমনি আমার আগে যিনি ক্ষমতায় ছিলেন তার কারণেও হয়েছে। লোকটা আস্ত একটা বিপর্যয় ছিল। আর তাই আপনি যখন ওই রকম একজনের সঙ্গে নিজের তুলনা করবেন, তখন আপনাকে নিজের যোগ্যতার চেয়েও হয়তো কিছুটা বেশি ভালো দেখাবে। এটা হতেই পারে। তবে আমার সত্যিই মনে হচ্ছে বর্তমানে আমাদের প্রশাসন অত্যন্ত শক্তিশালী।
কাপুটো : কিন্তু এর কারণ তো এটাই যে আপনি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। বেশ কিছু জিনিস এবার ভিন্নভাবে করেছেন। আগের চেয়ে এবার কোন জিনিসগুলো আপনি ভিন্নভাবে বা আরও ভালোভাবে করেছেন?
ট্রাম্প : সত্যি বলতে, এর উত্তর দেওয়াটা একটু কঠিন, কারণ আমি আসলে এসব নিয়ে ওভাবে ভাবি না। আমার যা করার দরকার, আমি শুধু তা-ই করে যাই। আমি যেকোনো মূল্যে কাজটা শেষ করতে চাই। আমি নিজেকে ওভাবে বলি না যে, ‘আচ্ছা, এবার আমি কাজটা একটু অন্যভাবে করব।’ হয়তো অবচেতন মনে ভাবি, কিন্তু মুখে বা মাথায় ওভাবে আনি না যে, ‘আচ্ছা, ভিন্ন কী করা যায়?’ আমি শুধু কাজটা সফলভাবে শেষ করতে চাই এবং আমি সবসময়ই তা করে এসেছি। এভাবেই আমি প্রথমবারও নির্বাচিত হয়েছিলাম, আর দ্বিতীয়বারও এভাবেই জিতেছি। তবে ট্রাম্পের এই দ্বিতীয় প্রশাসন অনেক বেশি শক্তিশালী। আমার নিজের কাছেও এটি অনেক বেশি কার্যকর মনে হচ্ছে। আমি ভুলও হতে পারি। আপনি হয়তো আমার চেয়ে ভালো বলতে পারবেন, কারণ আমি এগুলো নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাই না। তবে আমার বিশ্বাস, এবারের প্রশাসন অনেক বেশি শক্তিশালী। যদিও আমাদের প্রথম মেয়াদটাও দারুণ ছিল। প্রথম মেয়াদে আমি পুরো সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজিয়েছি, স্পেস ফোর্স তৈরি করেছি এবং আরও কত কী করেছি! আমাদের অর্থনীতি ছিল ইতিহাসের সেরা। চাকরির বাজারে রেকর্ড সংখ্যা ছিল। আমাদের সব ছিল। প্রথম মেয়াদটা চমৎকার ছিল, কিন্তু শেষে এসে আমরা কোভিডের ধাক্কা খেলাম। ওটা তো আর আমার দোষ ছিল না। তবে সব মিলিয়ে আমাদের প্রশাসন দারুণ ছিল। কিন্তু এবারেরটা আমার মতে আরও বেশি ভালো।
কাপুটো : আপনি জি-৭ সম্মেলনের কথা বলছিলেন। সেখানে আপনি বিশ্বের অনেক নেতার সঙ্গে দেখা করেছেন। আপনি যখন রুমে ঢুকলেন এবং বললেন, ‘আমিই বস’। তাদের মধ্যে কতজন এটা বিশ্বাস করেছে?
ট্রাম্প : সবাই বিশ্বাস করেছে। তবে ওটা আমি স্রেফ মজার ছলে বলেছিলাম। আসলে হয়েছিল কী, তারা সবাই বসে ছিল। আর আমি যখন রুমে ঢুকলাম, তখন দৃশ্যটা বেশ মজার লাগছিল। কারণ টেবিলটা ছিল বিশাল লম্বা। কিন্তু সেখানে বসার মতো নেতা ছিলেন মাত্র সাতজন। টেবিলটা মূলত ৩০ জনের বসার জন্য বানানো হয়েছিল। তাই টেবিলের একদিকের পুরো মাথাটা দেখতে একদম নিখুঁত একটা পোডিয়াম বা মঞ্চের মতো লাগছিল, বুঝলেন? আমি দেখলাম তারা সবাই বসে আছেন। সবাই বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব, একেকটা দেশের প্রধান। অবশ্য সেখানে আরও কয়েকজন অতিথিও ছিলেন, আপনি জানেনই। উদাহরণ হিসেবে ভারতের মোদির কথা বলা যায়, চমৎকার একজন মানুষ। অনেকেই এসেছিলেন। তারা চাইলে আসতে পারেন এবং বসতে পারেন। তো আমি যখন ভেতরে ঢুকলাম, এই নেতাদের দিকে তাকিয়ে স্রেফ বলে উঠলাম, ‘আমিই বস, মনে রাইখো।’ আপনি তো জানেনই ওটা একটা রসিকতা ছিল। কিন্তু এই কথাটি নিয়ে সারা বিশ্বে এত মাতামাতি হলো যে আমি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছি না! আমি স্রেফ একটু মজা করছিলাম, কিউট হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। আমি সত্যি সত্যি সেখানে নিজেকে বস প্রমাণ করতে যাইনি।
কাপুটো : দুই মেয়াদের অভিজ্ঞতার কারণে বিশ্বনেতাদের সম্পর্কে আপনার খুব ভালো ধারণা আছে। আপনার মতে একজন ‘মহান নেতা’র সংজ্ঞা কী? আপনি কীভাবে একে সংজ্ঞায়িত করবেন?
ট্রাম্প : দেখুন, পৃথিবীতে হরেক রকমের নেতা আছেন। গতকালের কথাই ধরি, আমি তার নাম আবারও নেব কারণ তিনি সত্যিই অসাধারণ। সারা জীবন আমি ভারতকে লক্ষ্য করেছি। সেখানে খালি সরকার বদলাত, ঘন ঘন পরিবর্তন হতো। কেউ ছয় মাস থাকত, তো কেউ এক বছর। আর তারপর হুট করে প্রধানমন্ত্রী মোদি এলেন। তিনি সেখানে ১২ বছরের বেশি সময় ধরে আছেন, অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে। তিনি কাজগুলো করেন এক অদ্ভুত শান্ত মেজাজে, অথচ তিনি কিন্তু আদতে মোটেও শান্ত প্রকৃতির মানুষ নন। তিনি খুবই শক্ত একজন মানুষ। আমি তাকে খুব ভালো করেই চিনি। আবার এর বিপরীতে একেকজন নেতা সম্পূর্ণ ভিন্ন হন। আমি ব্রাজিলের নেতার কথা বলতে পারি, তাকে আমি কিছুটা চিনি। সে আবার অত্যন্ত অস্থির বা চঞ্চল মেজাজের মানুষ।
অ্যাক্সিওস থেকে সংক্ষিপ্ত অনুবাদ




