যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে যাওয়া নারী ফিরলেন কারাগারে

ক্রিস্টা পাইক
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়েও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়নি ক্রিস্টা পাইকের। কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি টেনেসির ডেবরা কে. জনসন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শনিবার এক বিবৃতিতে পাইকের আইনজীবী লুক ইহেন, র্যান্ডি স্পিভি, স্টিফেন ফেরেল ও কেলি গ্লিসন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তারা বলেছেন, ‘এ ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে জরুরি সেবাকর্মী ও চিকিৎসক দল যে সেবা দিয়েছেন, সে জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।’
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, কারাগারেও পাইক চিকিৎসা পাচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তাকে একটি শয্যায় বেঁধে পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে এ ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে দুটি ডোজ দেওয়ার পরও বেঁচে যান পাইক।
প্রথম ডোজ দেওয়ার কিছুক্ষণ পর পাইক তার হাতে জ্বালাপোড়া করার কথা জানিয়েছিলেন। এটি স্বাভাবিক কি না, তা জানতে চান তিনি। এরপর তিনি আরও ওপরের দিকে, কাঁধের কাছে ইনজেকশন দেওয়ার অনুরোধ করেন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা প্রত্যক্ষ করেছিলেন পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পিভি। তিনি এর আগে জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পর পাইক অচেতন হয়ে পড়েন। তবে তার শ্বাস চলছিল এবং শ্বাসরোধের মতো শব্দ হচ্ছিল। পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। পাইককে তিনি একজন ‘বেঁচে ফেরা মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে ন্যাশভিলের ডেভিডসন কাউন্টি চ্যান্সারি কোর্টের বিচারক আই’আশিয়া মাইলস পাইকের ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট বার্তাও রয়েছে।
১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে নির্যাতন ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল পাইককে। হত্যাকাণ্ডের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। নক্সভিল জব কর্পসে সহপাঠী ছিলেন তারা।
পাইকের সঙ্গে ওই হত্যাকাণ্ডে তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপও জড়িত ছিলেন। তাকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সূত্র : বিবিসি




