পেন্টাগনের গোপন বৈঠকে তোলপাড়
- কংগ্রেসে জবাব দিতে গিয়ে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভেতরের চাপ এবার কংগ্রেসের গোপন বৈঠকেও প্রকাশ্যে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সিনেটে রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান— দুই দলের আইনপ্রণেতারাই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কলবির কাছে ইরান যুদ্ধ, অস্ত্রের মজুদ এবং ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ন্যাশনাল গার্ডের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে তোলা হয় একের পর এক প্রশ্ন।
তবে বৈঠক শেষে কয়েকজন সিনেটর জানালেন, তারা প্রত্যাশিত স্পষ্টতা পাননি; বরং আরও কিছু প্রশ্ন নিয়েই তাদের বের হতে হয়েছে। সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এই গোপন ব্রিফিংয়ের উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ন্যাশনাল ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজি বাস্তবায়ন এবং এর প্রভাব নিয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করা। কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে আরও তাৎক্ষণিক তিনটি বিষয়— ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ, গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়া এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ন্যাশনাল গার্ড ব্যবহারের সম্ভাবনা।
ইরান যুদ্ধের খরচ কতটা?: বৈঠকের পেছনে সবচেয়ে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে ইরান যুদ্ধে বাড়তে থাকা সামরিক ব্যয়। কংগ্রেসের বাজেট অফিসের হিসাব অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান সংঘাতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সরাসরি ব্যয় প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ব্যবহৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম আবার কেনা, যুদ্ধবিমান পরিচালনা, জ্বালানি এবং অন্যান্য সামরিক কার্যক্রমের খরচ রয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে পরিস্থিতির তীব্রতার ওপর নির্ভর করে প্রতি মাসে আরও প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
পেন্টাগনের বক্তব্য ভিন্ন: তবে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মাত্রাকে একইভাবে দেখছে না। প্রশাসনের বক্তব্য, প্রেসিডেন্টের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ এবং প্রয়োজনীয় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মতো অস্ত্র ও সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
একদিকে সরকারি হিসাবে যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে এবং কিছু অস্ত্রের মজুদ পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে পেন্টাগন বলছে, বর্তমান সামরিক লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে ন্যাশনাল গার্ড?: ব্রিফিংয়ের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় ছিল ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। সিনেটররা জানতে চান, নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের বিষয়ে পেন্টাগনের ভেতরে কোনো আলোচনা চলছে কি না।



