গোপন চুক্তি করে ২৫ হাজার অভিবাসীকে দেশ ছাড়া করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: রয়টার্স
আইনত যাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায় না, এমন ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে বিভিন্ন দেশে নির্বাসিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে গোপন চুক্তি করে অভিবাসীদের সেসব দেশে পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করা ফরবিডেন স্টোরিজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
২০২৫ সালে জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে অভিবাসীদের নির্বাসিত করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে গোপনে এসব চুক্তি করছে ওয়াশিংটন। তদন্তে উঠে এসেছে, এ কাজে এরই মধ্যে অভিবাসী নেওয়া দেশ ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে ৪১ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ২৫ হাজার ৪৪৭ জনকে তৃতীয় কোনো দেশে নির্বাসিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার জনকেই পাঠানো হয়েছে পাশের দেশ মেক্সিকোতে। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৭টি দেশে নির্বাসিত করা হয়েছে অভিবাসীদের। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি করেছে আরও ৭টি দেশের সঙ্গে।
এর আগে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানায়, আফ্রিকার দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের গ্রহণে বাধ্য করতে তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ আরোপ করছে ওয়াশিংটন।
আইনজীবীদের ভাষ্য, নির্বাসিতদের এসব দেশে বিনা অভিযোগে আটকে রাখা হচ্ছে। বেশিরভাগ অভিযোগের সঙ্গেই তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
ফরবিডেন স্টোরিজ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে স্টেট ডিপার্টমেন্টের আওতায় ‘অফিস অফ রিমিগ্রেশন’ নামে একটি বিভাগ তৈরি করা হয়। অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে নির্বাসন ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি তারাই দেখভাল করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দপ্তরটির প্রধান ৪১ বছর বয়সী কূটনীতিক ক্রিশ্চিয়ান জোভে এরহার্ড। আফ্রিকার ক্যামেরুনে তার সফরের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
গত ডিসেম্বরের ওই সফরে দেশটির সঙ্গে অভিবাসীদের গ্রহণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর এক সপ্তাহ পরে ক্যামেরুনের সঙ্গে প্রায় ৪০ কোটি ডলারের সহায়তা কর্মসূচিতে স্বাক্ষর করে ওয়াশিংটন।
এর পরের মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তারা ক্যামেরুনে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) শরণার্থীদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন সহজ করতে এবং অবৈধ অভিবাসন মোকাবেলায় আরও ৩ কোটি ডলার সহায়তা দেবে।
অন্য দেশকে সরাসরি অর্থ দিয়েছে ওয়াশিংটন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র পালাউ ৭৫ জন অভিবাসী গ্রহণের বিনিময়ে ৭৫ লাখ ডলারের চুক্তি করে।
আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনিতে ১৬০ জন অভিবাসীকে নির্বাসিত করতে ৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশটিতে ৩২ জনকে পাঠানো হয়েছে। এই চুক্তিতে অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও নির্বাসিতদের গ্রহণ করা হয়েছে বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।



