জেলেনস্কির চিঠিকে রাশিয়ায় ‘অসন্তোষ সৃষ্টির কৌশল’ বলছে সমালোচকরা

রয়টার্স
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনার জন্য দুই নেতার বৈঠকের প্রস্তাব দেন এবং সতর্ক করেন, অন্যথায় কিয়েভ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। তবে এ চিঠিকে ‘অসৎ জনসংযোগ কৌশল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রুশ জাতীয়তাবাদীরা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি দেশেও পাঠানো হয়েছে এই চিঠি।
চিঠিতে জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকটে অধিকাংশ রুশ নাগরিক ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা শান্তি চায়।
তিনি বৈঠকের জন্য নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করার প্রস্তাব দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ ও শান্তিসংক্রান্ত আলোচনা আয়োজনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক ও আরব বিশ্বের দেশগুলো রয়েছে।
চিঠিতে তিনি পুতিনকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ নিতে ভয় পাবেন না। এখন আপনার কাছে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ইউক্রেন আমাদের—আপনার এবং আমার মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসানের প্রস্তাব দিচ্ছে। আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব দিচ্ছি… যদি আপনি নিজে এই সিদ্ধান্তে না পৌঁছান যে, যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে, তাহলে ইউক্রেন তার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে।’
জেলেনস্কি ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা পুতিনের ব্যক্তিগত অবস্থানের জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তিনি লেখেন, ‘রাশিয়ার ইতিহাসে এটি একটি সত্য, যা আপনি ভালো করেই জানেন: রাশিয়া যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন পরিবর্তন আসে।’
এদিকে, জেলেনস্কির লেখা খোলা চিঠিকে রুশ জাতীয়তাবাদীরা ‘অসৎ জনসংযোগ কৌশল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, এর উদ্দেশ্য যুদ্ধ শেষ করা নয়, বরং রাশিয়ার ভেতরে অসন্তোষ উসকে দেওয়া।
১৫ লাখের বেশি অনুসারী থাকা প্রভাবশালী যুদ্ধবিষয়ক ব্লগার রাইবার বললেন, ‘বিবৃতিটির ভাষা দেখলে সেখানে প্রকৃত কূটনীতির সামান্য চিহ্নও পাওয়া যায় না।’
চিঠিটিকে ‘ব্লাফ’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাইবার বলেছেন, ‘চিঠির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে সরাসরি অপমান, “কারণহীন তোমার যুদ্ধ” ধরনের বক্তব্য, রুশ নাগরিকদের উদ্দেশে “তোমাদের শহরের ওপর ড্রোন” নিয়ে হুমকি, জ্বালানি সংকটের কথা এবং কথিত নতুন সেনা সমাবেশের দাবি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘সব মিলিয়ে এটি রাশিয়ার ভেতরে নতুন করে অসন্তোষ সৃষ্টি করার আরেকটি চেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।’
অন্যদিকে, শুক্রবার ইজভেস্তিয়া সংবাদমাধ্যমকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির একটি খোলা চিঠি সম্পর্কে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবহিত করা হয়েছে।
পেসকভ বলেছেন, ‘হ্যাঁ, গত রাতেই আমরা এর লিখিত সংস্করণটি (পুতিনের কাছে) হস্তান্তর করেছি। গণমাধ্যম থেকে যা এসেছে, তা প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি তা পর্যালোচনা করেছেন। প্রেসিডেন্টকে অবহিত করা হয়েছে এ বিষয়ে।’
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেছেন, আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমেও পাঠানো হবে চিঠিটি।





