পুতিনঘনিষ্ঠ অরবানের বিদায়ের পর একসঙ্গে ১০ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার হাঙ্গেরির

বুদাপেস্টে অবস্থিত রুশ দূতবাস- গুগল ম্যাপ
রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থেকে সরে এসে এবার বড় পদক্ষেপ নিল হাঙ্গেরি। দেশটি মঙ্গলবার ১০ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক মর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে হাঙ্গেরি। ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের শাসনের অবসানের পর রাশিয়ার সঙ্গে বুদাপেস্টের সম্পর্কের পরিবর্তনের এটি বড় একটি ইঙ্গিত।
এর পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, রাশিয়ার এই জবাব হাঙ্গেরির জন্য বেদনাদায়ক হবে।
১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন অরবান। ক্ষমতায় থাকাকালে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পরও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন তিনি।
হাঙ্গেরি অরবানের নেতৃত্বে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখে, রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ আটকে দেয় এবং ইউক্রেনকে দেওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯ হাজার কোটি ইউরোর ঋণও আটকে দিয়েছিল।
রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর ইউরোপের অনেক দেশ কয়েক ডজন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিল। কিন্তু হাঙ্গেরি একজনকেও বহিষ্কার করেনি। মঙ্গলবারের আগে ২০১৮ সালের পর প্রকাশ্যে কোনো রুশ কূটনীতিককে দেশ থেকে ফেরত পাঠায়নি হাঙ্গেরি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই সিদ্ধান্তের অর্থ রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়। হাঙ্গেরি প্রয়োজনীয় সংলাপ অব্যাহত রাখতে চায়।’
নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার ও তার মধ্য-ডানপন্থী সরকার বারবার বলেছে, হাঙ্গেরির প্রধান জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো। ভিক্টর অরবানের আমলে ক্ষয়ে যাওয়া আস্থা পুনর্গঠন করাই সরকারের লক্ষ্য বলেও জানিয়েছে তারা।
মে মাসে পার্লামেন্টের এক শুনানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা অরবান বলেছেন, রাশিয়া ‘অংশীদার হিসেবে থাকবে’। তবে এই সম্পর্ক ‘একতরফা নির্ভরতার’ ভিত্তিতে হতে পারে না বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, রাশিয়ার নীতিগুলো হাঙ্গেরি ও ইউরোপের জন্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।






