ইউক্রেনীয় ড্রোনে লাটভিয়ায় সরকার পতন

লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী এভিকা সিলিনা
রাশিয়াগামী ইউক্রেনীয় ড্রোন লাটভিয়ার ভূখণ্ডে ঢুকে পড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের জেরে পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এভিকা সিলিনা।
গত সপ্তাহে পূর্ব লাটভিয়ায় দুটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রিস স্প্রুডসকে বরখাস্ত করেছিলেন। ঘটনার প্রতিক্রিয়া সামলাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগ দেন তিনি।
এর প্রতিবাদে স্প্রুডসের দল ‘প্রগ্রেসিভস’ সিলিনার জোট সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে অক্টোবরে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনের কয়েক মাস আগেই ভেঙে পড়ে সরকার।
সিলিনা বৃহস্পতিবার বললেন, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদে একজন যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিকভাবে বড় বড় কথা বলা লোকেরা সংকট তৈরি করার পথ বেছে নিয়েছে। আমি পদত্যাগ করছি, তবে হাল ছাড়ছি না।’
গত ৭ মে লাটভিয়ার আকাশসীমায় তিনটি ড্রোন প্রবেশ করার ঘটনার পর রাজনৈতিক এই সংকট তৈরি হয়। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এটি ছিল দ্বিতীয় এমন ঘটনা।
লাটভিয়া ও ইউক্রেন—দুই দেশই স্বীকার করেছে যে ড্রোনগুলো সম্ভবত ইউক্রেনের ছিল, যেগুলো রাশিয়াকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। তবে সিগন্যাল জ্যাম হওয়ার কারণে পথ হারিয়ে লাটভিয়ায় ঢুকে পড়ে সেগুলো।
একটি ড্রোন মাটিতে আছড়ে পড়ে, আরেকটি রেজেকনে শহরের কাছে একটি খালি তেল সংরক্ষণাগারে আঘাত হানে। তৃতীয়টি লাটভিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে আবার বেরিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমকে জানান, সরকারি প্রতিক্রিয়া ছিল বিলম্বিত ও অপর্যাপ্ত। তাদের অভিযোগ, রেজেকনের কাছে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার মোবাইল সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়নি এক ঘণ্টা পরও।
ঘটনার পর সিলিনা বলেছিলেন, ‘কোথাও না কোথাও ভুল হয়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে দিতে পারি না আমরা।’
প্রেসিডেন্ট এডগার্স রিনকেভিচস জানিয়েছেন, তিনি ১৫ মে নতুন সরকার দ্রুত গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিন দলীয় জোট সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন এভিকা সিলিনা। ইউক্রেনের পক্ষে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে এসেছে তার সরকার।
লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও এস্তোনিয়ার মতো অন্য দুই বাল্টিক দেশের মতোই, ক্রমবর্ধমান উদ্বেগে রয়েছে সম্ভাব্য রুশ আগ্রাসন নিয়ে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর এক বছর পর বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা পুনরায় চালু করে এবং দ্রুত নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে শুরু করে লাটভিয়া।




