শান্তি আলোচনার জন্য রাশিয়ায় ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা

মস্কোতে মার্কিন প্রতিনিধি দল। ছবি: রয়টার্স
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনার জন্য আবারও মস্কোতে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। শান্তি আলোচনা মাঝখানে স্থবির হয়ে পড়ে। আজ শনিবার তারা রাশিয়ার রাজধানীতে পৌঁছান। মস্কো থেকে তারা কিয়েভে যাবেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত উইটকফ এবং মেয়ের জামাই কুশনার জানুয়ারির পর এই প্রথম রাশিয়া সফরে গেলেন। জানুয়ারির সেই সফরের এক মাস পর ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তখন থেকে ইউক্রেন শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উইটকফ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করে আসছেন। ওই বছরের শেষের দিকে পুতিনের-উইটকফের বৈঠকে যোগ দিতে শুরু করেন কুশনার। তবে মার্কিন এই দুই প্রতিনিধি প্রথমবারের মতো কিয়েভ সফরে যাচ্ছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের সময় রাশিয়ায় কোনো বিমান হামলা চালাবে না কিয়েভ। একই সঙ্গে তিনি পুতিনকেও ইউক্রেনে সাময়িক হামলা বন্ধ রাখার আহ্বান জানান।
সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ মস্কো সফর করার মাত্র কয়েক দিন পর মার্কিন প্রতিনিধিরা যাচ্ছেন। র্যাটক্লিফ সেখানে যুদ্ধে মস্কোর সম্ভাবনার এক হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরেছিলেন। যুদ্ধ শেষ করতে রুশ কর্মকর্তাদের তাগিদও দিয়েছিলেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা বদলানোর পরই মূলত এই আলোচনা হতে যাচ্ছে। গত এপ্রিল থেকে রাশিয়ার জ্বালানি ও লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান শুরু করে ইউক্রেন। এতে সাধারণ রুশ নাগরিকরা ভুক্তভোগী হচ্ছেন।
অন্যদিকে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইউক্রেনজুড়ে আরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। এতে কিয়েভের দৈনন্দিন জীবন দিন দিন হয়ে উঠছে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি শুক্রবার কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার সদর দপ্তরেও ড্রোন হামলা হয়েছে।
জেট চালিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইলের মতো উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই যুদ্ধের ব্যয়ভার বহনে মারাত্মক আর্থিক চাপে আছে।
শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট জানান, যেকোনো যুদ্ধবিরতির আগে ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে। এই দাবির প্রতি সবসময় জোর দিয়ে আসছে মস্কো। তবে ইউক্রেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট পুতিনও বলেছিলেন, মার্কিন মধ্যস্থতা যাই থাকুক না কেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনকে আগে নিজেদের মধ্যে চুক্তি করতে হবে।





