মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান

ছবি: রয়টার্স
মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। একই এলাকায় ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি বিরল খনিজেরও (রেয়ার আর্থ) উচ্চ ঘনত্ব পাওয়া গেছে। সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান সোমবার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইয়িদ এলাকায় পরিচালিত অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের সম্ভাব্য মজুদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব আকরিকের মধ্যে, বিশেষ করে ভারী রেয়ার আর্থ খনিজের ঘনত্ব বেশি এবং সেখানে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ইউরেনিয়ামও রয়েছে।
তবে এই ১১ কোটি টনকে বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব বা আকরিক থেকে প্রকৃতপক্ষে কত টন ইউরেনিয়াম উত্তোলন করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি। ফলে আবিষ্কারের অর্থনৈতিক মূল্য ও বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের সম্ভাবনা নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, জাবাল সাইয়িদ প্রকল্পের এই মজুদকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রেয়ার আর্থ খনিজসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটি এখন নিজেদের খনিজসম্পদ কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি পারমাণবিক জ্বালানির একটি নিজস্ব সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা দেখছে।
সৌদি আরব গত কয়েক বছর ধরে ইউরেনিয়ামসহ বিভিন্ন কৌশলগত খনিজের অনুসন্ধান বাড়িয়েছে। দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে খনিজ, শিল্প ও জ্বালানি খাতকে অর্থনীতির নতুন ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
এর সঙ্গে দেশটির বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিও এগোচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে একটি চুক্তি করে। ওই চুক্তি সৌদি আরবের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি সম্প্রসারণে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে।
সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী আইএইএর সম্মেলনে বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশে পরিচালিত হচ্ছে এবং তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাইরে বা গোপনে কোনো স্থাপনায় পরিচালনা করা হচ্ছে না। সৌদি আরব পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি ইউরেনিয়ামসম্পদ অনুসন্ধান ও অর্থনৈতিকভাবে তা ব্যবহারের সম্ভাবনাও যাচাই করছে।
এর আগে ২০২৫ সালে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশটি ইউরেনিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজে বিনিয়োগ করবে এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে তা বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মদিনায় পাওয়া নতুন খনিজসম্পদ সৌদি আরবের জন্য শুধু পারমাণবিক জ্বালানির সম্ভাব্য উৎস নয়, বরং বৈশ্বিক রেয়ার আর্থ খনিজ সরবরাহব্যবস্থায়ও দেশটির গুরুত্ব বাড়াতে পারে। তবে মজুদের প্রকৃত পরিমাণ, ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব, উত্তোলনযোগ্য অংশ এবং উৎপাদন ব্যয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পরই এর বাস্তব অর্থনৈতিক গুরুত্ব স্পষ্ট হবে।




