হরমুজ এড়াতে নতুন পাইপলাইন আরব আমিরাতের

২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে সুপারট্যাঙ্কার ডকের কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন আনছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ এড়িয়ে সরাসরি তেল রপ্তানি করতে একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে দেশটি। ২০২৭ সালের মধ্যে এই পাইপলাইন চালু হলে আমিরাতের তেল রপ্তানি ক্ষমতা দ্বিগুণ হবে।
আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বাইরে পাঠানো যায়। নতুন পাইপলাইনটি চালু হলে এই ক্ষমতা দ্বিগুণ হবে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত দৈনিক প্রায় ৩৪ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। তবে ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের মতো নিয়ম চালু করার পর আমিরাতের তেল রপ্তানি প্রায় ৬০ শতাংশ কমে আসে।
যুদ্ধের শুরুতে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিতে বাধা দিলেও নিজেদের সরবরাহ সচল রেখেছিল। তবে গত মাসে মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর কড়া নৌ-অবরোধ আরোপ করার পর থেকে তেহরানের তেল রপ্তানিও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন পাইপলাইনটি তৈরি হলে আমিরাত হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই যুদ্ধপূর্ব সময়ের সমপরিমাণ তেল বিশ্ববাজারে পাঠাতে পারবে। ২০২৭ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুধাবি।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর




