৩৮ দিনে ইরানে ১৮ হাজার বোমা
- এক টন ওজনের বোমা নিষ্ক্রিয় ইরানের

ছবি: রয়টার্স
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র এই অপারেশনের নাম দেয় এপিক ফিউরি। আর ইসরায়েল দেয় অপারেশন রোয়ারিং লায়ন। ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শুরুর আগে তাদের এ অপারেশন চলে ৩৮ দিন। এ সময়ের মধ্যেই স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরীণ এলাকার প্রায় ৫০ হাজারের বেশি ছবি তুলেছে ইসরায়েল। সেসব ছবি যাচাই করে ইরানের ৪ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে ১৮ হাজারের বেশি বোমা ফেলেছে তেলআবিব। এদিকে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছোড়া অবিস্ফোরিত এক টন ওজনের একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করেছেন ইরানের সামরিক প্রকৌশলীরা। খবর জেরুজালেম পোস্টের।
হিসাব করলে ইসরায়েলের স্যাটেলাইট দিনে গড়ে এক হাজারের বেশি ছবি তোলে ইরানের। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী এর আগে ২০২৫ সালের জুনে তারা ইরানের প্রায় ১২ হাজার ছবি ধারণ করে স্যাটেলাইট ব্যবহারের মাধ্যমে। অর্থাৎ আগের ছবির সংখ্যার সঙ্গে যোগ করলে সম্প্রতি এ যুদ্ধসহ ইরানের কয়েকশ বর্গকিলোমিটার অঞ্চলের ছবি ধারণ করেছে ইসরায়েল বাহিনীর স্যাটেলাইট। এ বছরের এপ্রিলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ইরানের চার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে চালিয়েছে বিমান হামলা। বোমা নিক্ষেপ করেছে প্রায় ১৮ হাজার। তাদের দাবি টার্গেটের বেশিরভাগ অঞ্চল ছিল ইরানের সামরিক ঘাঁটি।
যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে দিনে গড়ে এক হাজারটি টার্গেটে সমপরিমাণ বোমা হামলা চালিয়েছে। তবে মার্চের মাঝামাঝি থেকে বোমাবর্ষণ ক্রমেই কমতে শুরু করে।
২০২৫ সালের জুনের ১২ হাজারটি ছবিও দিন ও রাত উভয় সময়ে ইরানি ভূখণ্ডের ১০ লক্ষাধিক বর্গকিলোমিটার জুড়ে ধারণ করা হয়েছিল। এর মানে হলো সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধে ইসরায়েল সম্ভবত ১০০ মিলিয়নেরও বেশি বর্গকিলোমিটার, এমনকি কয়েকশ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটারও ধারণ করেছে।
৯ এপ্রিল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরান যুদ্ধে তাদের অন্যান্য চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। যার মধ্যে ১৮ হাজার বোমা ফেলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই সংখ্যা ২০২৫ সালের জুন মাসে ১২ দিনের ইরান যুদ্ধের সময় আইডিএফ যে সংখ্যক বোমা ফেলেছিল তার প্রায় পাঁচগুণ। এই বোমাগুলো এক হাজার বিমান হামলার অংশ হিসেবে ফেলা হয়েছিল। বিমানগুলো ৮৫ হাজার পৃথক যুদ্ধ মিশন সম্পন্ন করেছিল।
এদিকে গত ৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, তারা ইরানের ভেতরে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। তবে এ হিসাব পুরোপুরি তুলনাযোগ্য নয়। বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েলি ও আমেরিকান উভয় কর্মকর্তাই দাবি করেছেন, তারা একে অন্যের চেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বোমা ফেলেছে। তবে সব সময়ই প্রতিপক্ষের বিমানবাহিনীর প্রশংসাও করেছেন।
যুদ্ধের বেশিরভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিকে (ইরান) অঞ্চলভিত্তিকভাবে ভাগ করে নিয়েছিল। যেখানে ইসরায়েল মূলত পশ্চিম, উত্তর এবং মধ্য ইরানে (তেহরানসহ) আক্রমণ করেছিল। আর যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরান এবং বিভিন্ন জলপথের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছিল।
অন্যদিকে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সানানদাজে অবিস্ফোরিত এক টন ওজনের একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করেছেন ইরানের সামরিক প্রকৌশলীরা। আজ আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ জানিয়েছে এমন তথ্য।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা থেকে বোমাটি সেখানে রয়ে গিয়েছিল। বোম নিষ্ক্রিয়কারীর একটি ব্যাটালিয়নের প্রকৌশলীরা তা নিষ্ক্রিয় করেন। এতে আরও বলা হয়, বিপৎসীমার মধ্যে থাকা এলাকা থেকে যারা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে সরে গিয়েছিলেন, তারা অভিযান শেষ হওয়ার পর ফিরে এসেছেন।




