সৌদি আরবের খাদ্যবাজারে জায়গা বাড়ানোর উদ্যোগ পাকিস্তানের

গতবছর রিয়াদে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ- রয়টার্স
সৌদি আরবের খাদ্যনিরাপত্তার চাহিদা আর পাকিস্তানের কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা এবার মিলছে এক জায়গায়। আগামী দুই বছরের মধ্যে সৌদি আরবে পাকিস্তানের কৃষি ও খাদ্যপণ্য রপ্তানি বাড়িয়ে ৩০০ কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে ইসলামাবাদ ও রিয়াদ। চাল, লাল মাংস, ফল, পশুখাদ্য ও কম পানিতে চাষের প্রযুক্তিকে এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উদ্যোগে সৌদি কৃষি মন্ত্রণালয় ও পাকিস্তানের খাদ্য নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনার পর এ বিষয়ে সমঝোতা হয়।
গত সপ্তাহে পরিবেশ, পানি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রহমান এ. আলফাদলির নেতৃত্বে একটি সৌদি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ সফর করার পর এই অগ্রগতি হলো। পাকিস্তানের পক্ষে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণামন্ত্রী রানা তানভীর হুসাইন।
শরিফও সৌদি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে চাল, লাল মাংস, ফল ও ফলের ঘন নির্যাস, সবুজ পশুখাদ্য এবং কম পানিতে চাষের কৃষিপ্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এসব খাত সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দুই পক্ষ পাকিস্তানের বছরে প্রায় ৩০ হাজার টন লাল মাংস রপ্তানির বিষয়টিও পর্যালোচনা করেছে। এসব রপ্তানির মূল্য প্রায় ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। পাকিস্তানের লাল মাংস আমদানি ধীরে ধীরে দ্বিগুণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি পক্ষ।
সবুজ পশুখাদ্যকেও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ অংশীদারত্ব গড়ার সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে পশুপালন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং চালের সরবরাহব্যবস্থা ঘিরে দেওয়া বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলোও পর্যালোচনা করেছে দুই দেশ। প্রকল্পগুলো এগিয়ে নিতে সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা একমত হয়েছে।
দুই দেশ তাদের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা আবারও নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর খাদ্যনিরাপত্তার অগ্রাধিকারের সঙ্গে পাকিস্তানের কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনার সামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামাবাদ ও রিয়াদের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বেড়েছে। গত বছর দুই দেশ একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের সঙ্গে মিলে সৌদি আরব ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ও স্বাক্ষর করেছে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর








