ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
অপহরণের পর যৌন নির্যাতনের শিকার হন ফ্লোটিলা কর্মীরা

ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ‘নির্যাতন’ ও ‘যৌন নিপীড়নের’ অভিযোগ ফরাসি ফ্লোটিলা কর্মীদের- রয়টার্স
কিছুদিন আগে গাজার অবরোধ ভাঙতে যাত্রা করে সুমুদ ফ্লোটিলা। এই নৌবহরের জব্দ করা একটি নৌকার মানবাধীকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ইসরায়েলি হেফাজতে বন্দি ছিলেন। বন্দি থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তারা ভয়াবহ অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে।
হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়া গণহত্যাবিরোধী কর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের ওপর নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন চালানো হয়েছে। মৌলিক আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, মুক্তির পর বেশ কয়েকজন কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ১৫ জন কর্মী ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধসহ বিভিন্ন ধরনের যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর এই ফ্লোটিলাকে বাধা দিতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী ৫০টি নৌযান থেকে অন্তত ৪৩০ জনকে অপহরণ করে।
টেলিগ্রামে এক পোস্টে আয়োজকরা লেখেন, ‘কমপক্ষে ১৫টি যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে ধর্ষণও রয়েছে। খুব কাছ থেকে রবার বুলেট ছোড়া হয়েছে। বেশ কয়েক ডজন মানুষের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘সারা বিশ্বের চোখ এখন আমাদের অংশগ্রহণকারীদের কষ্টের দিকে নিবদ্ধ থাকলেও, আমরা এই বিষয়টি যথেষ্ট জোর দিয়ে বলতে চাই— এটি ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ইসরায়েলের প্রতিদিনের বর্বরতার একটি সামান্য ঝলক মাত্র।’
ফ্লোটিলায় থাকা অবস্থায় আটক হওয়া ইতালীয় অর্থনীতিবিদ লুকা পোগি রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমাদের কাপড় খুলে ফেলা হয়েছিল। মাটিতে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল। লাথি মারা হয়েছিল। আমাদের অনেকের ওপরই টেজার গান (বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অস্ত্র) ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ কেউ যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। কয়েকজনকে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি।’
ইতালির পাবলিক প্রসিকিউটররা অপহরণ, নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়নসহ সম্ভাব্য এসব অপরাধের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।
তথ্যসূত্র- রয়টার্স ও আলজাজিরা




