ইরানের দেখা পেতে আগে গিয়ে বসে আছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ইরানের মাশহাদে পৌঁছেছেন এবং দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, নাকভি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সফরটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ ঘিরে ইসলামাবাদের চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক শান্তি কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রেও ইসলামাবাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
এমন প্রেক্ষাপটে নাকভির তেহরান-মাশহাদ সফরকে আঞ্চলিক কূটনীতির নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনায় পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতা করছে। গত মাসেই তারা দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা চালালে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ৯ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলে এ লড়াই অনেকটাই থেমে যায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কিছু বার্তা পেয়েছেন। এ বার্তায় বোঝা যাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
এর আগে ইরানের দেওয়া একটি পাল্টা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে। এরপর গত মঙ্গলবার ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটনের উচিত শান্তির জন্য তেহরানের দেওয়া প্রস্তাব মেনে নেওয়া। তা না হলে তাদের ‘ব্যর্থতার’ মুখে পড়তে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেছেন, ‘১৪ দফার প্রস্তাবে ইরানের জনগণের যে অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। অন্য কোনো পথে গেলে কোনো ফল আসবে না, বরং একের পর এক ব্যর্থতা জুটবে।’





