পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেও হরমুজে চলছে জাহাজ

সামগ্রিকভাবে প্রতিদিনের নৌযান চলাচল কমে গেছে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে জাহাজ পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্য বলছে, সামগ্রিকভাবে প্রতিদিনের নৌযান চলাচল কমে গেছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উপাত্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে জাপান-সংশ্লিষ্ট অন্তত ২২টি জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে গেছে।
ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলার পর হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি ও সরকার।
কেপলার ও এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে খালি অবস্থায় থাকা অন্তত পাঁচটি এলএনজি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে।
এসব জাহাজের মধ্যে রয়েছে গ্রিক শিপিং প্রতিষ্ঠান গ্যাসলগের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্যাসলগ সাংহাই এবং কাতার এনার্জি-সংশ্লিষ্ট আল-সামরিয়া, আল-দাফনা, আল-গাত্তারা ও আল-রাইয়ান।
তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসলগ সাংহাই ও আল-রাইয়ান ৯ জুলাইয়ের রাতে প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। এর আগে সেদিন তাদের প্রণালির বাইরে দেখা গিয়েছিল।
অন্য তিনটি কাতার এনার্জি-সংশ্লিষ্ট জাহাজকে কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের পশ্চিম উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালির বাইরে সর্বশেষ দেখা যায়। আল-সামরিয়া ও আল-গাত্তারাকে সর্বশেষ ১৮ থেকে ১৯ জুন এবং আল-দাফনাকে ২৯ জুন সেখানে শনাক্ত করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে কাতার এনার্জি ও গ্যাসলগ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বৃহস্পতিবার নিসোস কেয়া নামের একটি অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। একই সময়ে লিলা ভাদিনার নামের আরেকটি অতি বৃহৎ তেলবাহী জাহাজ প্রণালি ত্যাগ করে।
জাহাজবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জেভিয়ার তাং জানান, সংঘাতের শুরুর দিকের তুলনায় এখন পরিস্থিতির পার্থক্য হলো, ইরান সব জাহাজকে লক্ষ্য না করে ওমান উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। ফলে আরও বেশি জাহাজ ইরানঘেঁষা পথ ব্যবহার করতে পারে অথবা প্রণালি অতিক্রমের সময় নিজেদের অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ রেখে চলাচল করতে পারে।




