সৌদিতে আসছে তুরস্কের সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

সৌদি আরবের জেদ্দায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: রয়টার্স
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে তুরস্ক। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন অপারেটর, গোয়েন্দা তথ্য ও রসদ সহায়তা রয়েছে।
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত আগস্টে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছিল। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বাড়ার পর সোমবার তিন দেশ চুক্তির আওতায় যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে সৌদি আরবে দ্রুত সেনা ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়।
তবে তুরস্কের স্থলসেনা এখনো সৌদিতে মোতায়েন হয়নি। দেশটির পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদনের পর তুর্কি সেনা পাঠানোর আইনি পথ তৈরি হবে। তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র জানিয়েছেন, চুক্তিটি কয়েক দিনের মধ্যে পার্লামেন্টে পাঠানো হতে পারে।
এরই মধ্যে তুরস্ক সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রব্যবস্থা সরবরাহ করছে। সৌদির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ড্রোন পরিচালনা, কৌশলগত পরিকল্পনা, রসদ ও গোয়েন্দা সহায়তাও দিচ্ছে। তুরস্কের এ সহায়তা আপাতত মূলত প্রতিরক্ষামূলক বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সৌদি আরব কয়েক মাস ধরে হুতি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রয়েছে। এসব হামলার কারণে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর মজুদ কমে আসার খবরও পাওয়া গিয়েছিল। এ কারণে রিয়াদ আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার জন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
তুরস্কের সহায়তা তাই শুধু সেনা পাঠানোর বিষয় নয়। আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন মোকাবিলা এবং গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক, পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় শক্তি সৌদি আরব এখন নিজেদের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।
তিন দেশই বলেছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। তাদের দাবি, এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে বাস্তবে চুক্তিটির সক্রিয়তা হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান সংঘাতের মধ্যেই ঘটল। ফলে এর সামরিক প্রভাব নিয়ে নজর বাড়ছে।
তুরস্কের পার্লামেন্ট চুক্তিটি অনুমোদন করলে সৌদি আরবে তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে। এর আগে থেকেই সামরিক সরঞ্জাম ও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ায় তুরস্কের ভূমিকা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ অভিযানে তুরস্ক ও পাকিস্তান সামরিক সরঞ্জাম ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে। তবে তাদের সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।
ফলে সৌদি আরবকে ঘিরে সামরিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। তুরস্কের সম্ভাব্য সেনা মোতায়েন, পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতা এবং হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি অভিযান— সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে।




