দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১৮

দক্ষিণ লেবাননের একটি এলাকা থেকে বিমান হামলার পর ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়- রয়টার্স
দক্ষিণ লেবাননের আবাসিক এলাকাগুলোতে শুক্রবার ভোরে লাগাতার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও ৩৩ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনবরত ইসরায়েলি বিমান হামলার কারণে উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কিছু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে হতাহতদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যাটি এখনো প্রাথমিক।
এর আগে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছিল, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলার আবাসিক এলাকাগুলোতে চালানো একাধিক বিমান হামলায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমান হামলাগুলো মূলত হারউফ, শারকিয়াহ এবং কাফর সির শহরগুলো লক্ষ্য করে চালানো হয়। এছাড়া কাফর রেমেন, কাফর তেবনিট এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলোতেও অতিরিক্ত হামলা চালানো হয়েছে। এতে বহু মানুষ হতাহত ও নিখোঁজ হয়েছেন।
সাম্প্রতিক হামলার মধ্যে নাবাতিহ ও এর আশেপাশের এলাকায় সবচেয়ে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ হয়েছে গত রাতে। ইসরায়েলি বাহিনী এই অঞ্চলজুড়ে তাদের হামলা আরও বাড়িয়েছে। স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে নাবাতিহ শহর এবং কাফর রেমেন, জেবদিন, নাবাতিহ আল-ফাওকা, হাব্বুশ, সাজদ ও জাবাল আল-রিহান শহরে ভারী কামানের গোলাবর্ষণ শুরু হয়।
এরপর রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো নাবাতিহ শহর, কাফর তেবনিট, নাবাতিহ আল-ফাওকা এবং রিহান পর্বতমালা লক্ষ্য করে দফায় দফায় বিমান হামলা চালায়।
প্রায় ৩টার দিকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো কাফর রেমেন-নাবাতিহ এলাকা, নাবাতিহ শহরের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং হারউফের বায়দার মহল্লায় দুই দফায় হামলা চালায়। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে আটজন নিহত হন। আরেকটি হামলায় শারকিয়াহ এবং দুয়াইর শহরের মধ্যবর্তী একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং চারজন নিহত হন। একই সময়ে ইসরায়েলি আর্টিলারি বা কামান থেকে নাবাতিহ শহরের রাহিবাত মহল্লায় তীব্র গোলাবর্ষণ করা হয়।
কাফর সির শহরে একটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন নিহত হন। অন্যদিকে ভোর ৪টার দিকে কসাইবেহ শহরে আরেকটি বিমান হামলার পাশাপাশি কাফর সির ও কসাইবেহর বহিঃপ্রান্তে কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে কাফরদজাল এবং কাফর তেবনিটেও অতিরিক্ত বিমান হামলা চালানো হয়।
ভোর ৫টার দিকে একটি ইসরায়েলি ড্রোন দুয়াইর পৌরসভা ভবনের কাছে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হয়। জেবচিত শহরেও কামানের গোলাবর্ষণের পাশাপাশি একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়।
ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো আদচিত শহরে বিমান হামলা চালায়। এর পরপরই কাফর রেমেন-নাবাতিহ এলাকা এবং তৌলে আরও হামলা চালানো হয়। তখন জেবচিত শহরে কামানের গোলাবর্ষণ অব্যাহত ছিল।
সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির মাঝেই এই ভয়াবহ হামলা চালানো হলো।







