টানা ষষ্ঠ রাতেও ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা আঘাতের দাবি তেহরানের

ইরানের সর্বশেষ হামলা চলাকালীন একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এক অজ্ঞাত স্থানে গোলাবর্ষণ করে- রয়টার্স
ইরানে টানা ষষ্ঠ রাতের সামরিক অভিযানে কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের অভিযোগ, হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সেতু, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার দাবি করেছে তেহরান।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করা। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ কার্যকর রাখতে একটি জাহাজেও অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার হামলা চালানো হয়েছে করে নির্ভুল অস্ত্রের মাধ্যমে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসহ কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে।
তবে সেন্টকম যে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে সেতু বা অন্য কোনো বেসামরিক স্থাপনার উল্লেখ ছিল না।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপের আশপাশ, বন্দর আব্বাস, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত বুশেহর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিরিকে আঘাত হেনেছে। এছাড়া খামির বন্দরের কাছে দুটি সেতুতেও হামলা হয়েছে। এতে দুইজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইরানশাহর বিমানবন্দরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমানবন্দরের কিছু অংশ।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর আব্বাসে বিদ্যুৎ অবকাঠামো, রেলস্টেশনসহ একাধিক বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরমুজগান প্রদেশের দুটি সেতুতেও হামলার কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। তাদের ভাষ্য, কুয়েতে মার্কিন সেনাদের মোতায়েনকেন্দ্র ও রসদ সহায়তা কেন্দ্র এবং কাতার ও বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে অভিযান।
শুক্রবার ভোরে কাতারের রাজধানী দোহায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভোর থেকে দেশটির আকাশসীমায় ‘শত্রু ড্রোন’ শনাক্ত করে সেগুলো সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। ড্রোন ধ্বংসের সময় এর ধ্বংসাবশেষ কয়েকটি আবাসিক এলাকায় পড়ে কিছু বাড়িঘর ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের হামলায় কুয়েতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। একই সময়ে বাহরাইনও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের দাবি, বাহরাইনের সাখির বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন হেলিকপ্টার ও গোয়েন্দা নজরদারি বিমান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী।
ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, ‘ইতিহাস, জনগণের সমর্থন, অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির ওপর ভর করে আমরা যেকোনো চাপ বা হুমকির বিরুদ্ধে সতর্কতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি।’
এর আগে চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান আলোচনায় না ফিরলে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে।





