আফগানিস্তানের বুক চিরেই চলবে ইরান-তাজিকিস্তানের বাণিজ্যপথ

ইরান ও তাজিকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হবে
ত্রিপক্ষীয় সড়ক পরিবহন করিডর প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে আফগানিস্তান, ইরান ও তাজিকিস্তান। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক ট্রানজিটে আফগানিস্তানের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
আফগানিস্তানের পরিবহন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন চুক্তি ও আইনবিষয়ক বিভাগের পরিচালক ইরানের মাশহাদে আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে তিন দেশ এই পরিবহন করিডর গঠনের বিষয়ে একমত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ইরান ও তাজিকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন এবং ট্রানজিট আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিচালিত হবে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেকমতুল্লাহ আসিফি বললেন, ‘বৈঠকে তিন দেশ সড়ক পরিবহনে সহযোগিতা বাড়ানো, পরিবহন সংযোগ জোরদার করা এবং আফগানিস্তান, ইরান ও তাজিকিস্তানের মধ্যে পণ্য পরিবহন ও ট্রানজিট আরও সহজ করার বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে।’
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, করিডরটি বাস্তবায়িত হলে আফগানিস্তানের ট্রানজিট আয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমবে। এতে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার সংযোগকারী স্থলসেতু হিসেবে দেশটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল নাসির রাশতিয়া বলেছেন, ‘আফগানিস্তানের সমুদ্রে সরাসরি প্রবেশাধিকার নেই। তাই এই করিডর দেশটির ট্রানজিট ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে এবং আফগানিস্তান ট্রানজিট সুবিধা থেকে লাভবান হলে জাতীয় আয় বাড়বে। পাশাপাশি আঞ্চলিক বাজারের সঙ্গে সংযোগও উন্নত হবে এবং বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।’
আরেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল জোহুর মোদাবের বলছিলেন, ‘আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, এটি মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে একটি ট্রানজিট সেতুতে পরিণত হতে পারে। এই সক্ষমতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও ট্রানজিটে নিজেদের ভূমিকা বাড়ানোর চেষ্টা করছে আফগানিস্তান। নতুন নতুন পরিবহন করিডর গড়ে তোলা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা সেই প্রচেষ্টারই অংশ।




