ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ধ্বংসে দুই সপ্তাহের হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্রের

অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার- রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করে দিতে দেশটির বিরুদ্ধে দুই সপ্তাহব্যাপী ব্যাপক বোমা হামলার পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো, সামরিক কমান্ড কেন্দ্র এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ১০ থেকে ১৪ দিন ধরে টানা বিমান হামলার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ কৌশলের লক্ষ্য হলো আরও হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তেহরানের সক্ষমতা দুর্বল করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো।
এ পরিকল্পনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানে রাতভর আরও এক দফা হামলা চালিয়েছে। সেন্টকম এ হামলাকে সপ্তাহের শুরুর দিকে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে তেহরানের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ‘জোরালো জবাব’ বলে বর্ণনা করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খুজেস্তান প্রদেশ এবং কেশম দ্বীপে হামলা হয়েছে। সেখানে তিনজন নিহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আইআরজিসি পাল্টা জবাবের অঙ্গীকার করেছে। অন্যদিকে জর্ডান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তারা ইরানের পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে সতর্ক করেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে ইরানকে ‘কঠোর আঘাত’ সহ্য করতে হবে। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘাত কতটা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প এখনও বিবেচনা করছেন।
প্রস্তাবিত এ হামলা পরিকল্পনা এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মজুত কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাধাদানকারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতে সম্ভাব্য অন্য সংঘাত মোকাবিলায় দেশটির সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সমালোচকদের সতর্ক করে বলেছেন, আরও বড় ধরনের বিমান অভিযান ওয়াশিংটনকে এ সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলতে পারে। এতে ব্যয় ও প্রাণহানি বাড়তে পারে এবং অঞ্চলটি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।







