দ্বিগুণ হচ্ছে মজুত সক্ষমতা
হরমুজের ঝুঁকিতে তেলের নতুন ভরসা ওমান
- দুকমে ভাসমান গুদাম বানাতে কেনা হতে পারে দুই সুপারট্যাঙ্কার
- বিকল্প পাইপলাইনও খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

ফাইল ছবি
হরমুজের সরু জলপথে একটি ট্যাঙ্কারের যাত্রা থমকে গেলে তার ঢেউ শুধু পারস্য উপসাগরেই আটকে থাকে না। বদলে যায় তেলের দাম, জাহাজভাড়া, সরবরাহের সময়সূচি, এমনকি হাজার মাইল দূরের বাজারের হিসাবও। সেই ঝুঁকিই এবার ওমানের আরব সাগরঘেঁষা দুকমকে এনে দিয়েছে নতুন গুরুত্ব। উপসাগরীয় দেশগুলো যখন হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমানোর পথ খুঁজছে, তখন আরও বেশি তেল নিজের উপকূলে ধরে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে মাসকাট।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ওকিউ দুকম বন্দরে অপরিশোধিত তেল মজুতের স্থলভিত্তিক সক্ষমতা তিন বছরের মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ব্যারেল করার পরিকল্পনা করছে।
ওকিউর প্রধান নির্বাহী আশরাফ আল মামারি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি দুটি অতি-বৃহৎ তেলবাহী জাহাজ কেনার সম্ভাবনাও যাচাই করছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল রাখা সম্ভব। এগুলো দুকমে ভাসমান তেলগুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চলতি বছরের শেষ দিকে নেওয়ার কথা। জাহাজ কেনা হলে সেগুলোকে মজুত ব্যবস্থায় যুক্ত করতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগবে।
আল মামারি বলেছেন, “পাইপলাইনের বিষয়ে ওমানের বার্তা হলো, আমরা অবশ্যই উন্মুক্ত। তবে আলোচনা এখনো একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে।” তাঁর মতে, বিষয়টি সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঝুঁকি ও চলাচলের বিঘ্ন উপসাগরীয় তেল উৎপাদকদের বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য করছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একদিকে হরমুজ দিয়ে রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে পাইপলাইন ও প্রণালির বাইরের বন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসেরও প্রচলিত লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় রুটের বাইরে বিকল্প খোঁজার কথা জানিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজের বাইরে ফুজাইরাহ তেলকেন্দ্রে আরও পাইপলাইন তৈরির পরিকল্পনা করছে।
ঝুঁকির মূল্যও কম নয়। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর থেকে চীনগামী অতি-বৃহৎ তেলবাহী জাহাজ ভাড়ার খরচ দিনে ১০ লাখ ডলারের ওপরে উঠেছে।
ওমানের বড় সুবিধা তার ভূগোল। রাস মার্কাজ তেল মজুত টার্মিনাল হরমুজের প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বাইরে, আরব সাগরের তীরে। ওমান ট্যাঙ্ক টার্মিনাল কোম্পানি বলেছে, টার্মিনালের প্রথম পর্যায়ে প্রায় আড়াই কোটি ব্যারেল তেল রাখার সক্ষমতা রয়েছে এবং এখান থেকে এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে সরাসরি পৌঁছানো যায়।
ওকিউর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য দুকমের স্থলভিত্তিক মজুত সক্ষমতা প্রায় ৪ কোটি ব্যারেলে নেওয়া। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি অ্যাঙ্গোলা, আলজেরিয়া ও লিবিয়ায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ খুঁজছে। ২০২৭ সালে পরিশোধন ও পেট্রোকেমিক্যাল ব্যবসার শেয়ার বাজারে ছাড়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
হরমুজকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা হয়তো সহজ নয়। কিন্তু প্রণালির প্রতিটি নতুন সংকট যেন ওমানের মানচিত্রে দুকমকে আরও বড় করে তুলছে। যে ভূগোল একসময় ছিল শুধু অবস্থানগত সুবিধা, সেটিই এখন উপসাগরীয় তেলের জন্য হয়ে উঠছে বিকল্প নিরাপত্তার দরজা।



