কয়লা-তেলের টেক্সাসে সৌরবিদ্যুতে ‘বদলে গেছে’ কারগিলের জীবন

স্টিভ কারগিল। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য টেক্সাসের উভালদেতে ১৯৫৩ সাল থেকে কৃষিকাজ করে আসছে স্টিভ কারগিলের পরিবার। ৬৭ বছর বয়সী কারগিলও বাবার পথ ধরে সেই জমিতেই চাষাবাদ করে আসছিলেন। তার আশা ছিল, একদিন তার তিন সন্তানের কেউ একজন দায়িত্ব নেবে পরিবারের কৃষিকাজের।
কিন্তু ২০১৮ সালের এক রাতের শিলাবৃষ্টি বড় ধাক্কা দেয় সেই স্বপ্নে। কয়েক মাসের পরিশ্রমে ফলানো বাঁধাকপি ও পেঁয়াজের ফসল এক রাতেই নষ্ট হয়ে যায়।
কারগিলের মনে আছে, ছেলে রায়ান তাকে বলেছিল, ‘বাবা, আমি জানি না আমি এটা আর করতে পারব কি না। আমরা সবকিছু ঠিকঠাক করি, এত পরিশ্রম করি অথচ এক সকালে উঠে দেখি সব শেষ।’
এরপর কারগিলের মনে প্রশ্ন জাগে, তারপর এই খামারের কী হবে? তিন সন্তানের কেউই কৃষিকাজকে পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে নিতে চাইছিল না। কৃষকদের জন্য অবসরকালীন পেনশনের নিশ্চয়তাও থাকে না। ফলে জমি ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল তার।
সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হয়ে আসে নতুন সম্ভাবনা। ২০০১ সালে কারগিল তার মোট জমির প্রায় এক-চতুর্থাংশ (৬০০ একর) সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ওসিআই এনার্জির কাছে ইজারা দেন। বিনিময়ে বছরে প্রায় ২ লাখ ডলার পান।
যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প একসময় তার কল্পনাতেও ছিল না, সেটিই এখন খামারটি টিকিয়ে রাখার বড় ভরসা। কারগিলের ভাষায়, ‘এটি আমার জীবন বদলে দিয়েছে।’
কারগিলের এ গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়। যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদনের সবচেয়ে বড় রাজ্য টেক্সাস। অথচ সেই টেক্সাসেই এখন দ্রুত বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার।
একসময় যেখানে তেল ও কয়লার আধিপত্য ছিল, সেখানে ওসিআই এনার্জির পদক্ষেপে সৌরবিদ্যুৎ এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় উৎস হয়ে উঠেছে। এতে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ কৃষকদের জীবন ও জমির হিসাবও।
চলতি বছরের শুরুতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষে উঠে আসে টেক্সাস। গত বছরের মার্চে প্রথমবারের মতো অঙ্গরাজ্যটিতে কয়লার চেয়ে সৌরবিদ্যুৎ থেকে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।
টেক্সাস সোলার অ্যান্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মার্ক স্টোভার জানিয়েছেন, গরমের দিনে বিদ্যুতের চাহিদা যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে, তখন রাজ্য জুড়ে ব্যবহৃত বিদ্যুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সৌরবিদ্যুৎ থেকে আসে।
টেক্সাসে সৌরবিদ্যুতের এ উত্থানের পেছনে রয়েছে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা, দ্রুত সৌরপ্রকল্প স্থাপনের সুযোগ এবং প্রযুক্তির ক্রমশ কমে আসা খরচ।
তবে এর সঙ্গে তৈরি হয়েছে বিরোধও। গ্রামীণ এলাকার কিছু বাসিন্দা জমি পরিষ্কার, পুরনো গাছ কাটা, জমির দৃশ্যপট বদলে যাওয়া এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ডেভিড ট্রুসডেলও সৌরপ্রকল্পের বিরোধিতায় যুক্ত হয়েছেন। শহরের জীবন থেকে দূরে থাকতে; তিনি ওই এলাকায় বসতি গড়েছিলেন। তার বাড়ির কাছেই একটি সৌরপ্রকল্প হওয়ার কথা জানতে পেরে তিনি এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
ট্রুসডেল উল্লেখ করেছেন, টেক্সাসের আইনে এ ধরনের প্রকল্পের জন্য পরিবেশগত পর্যালোচনার বাধ্যবাধকতা নেই।
তবে কারগিল তার বাবার একটি কথা মনে করেন, বুদ্ধিমান হওয়ার চেয়ে ভাগ্যবান হওয়া ভালো। তার নিজের জীবনে সৌরবিদ্যুতের আগমনকে ঠিক তেমনই একটি ভাগ্যের ঘটনা মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এটি এমন একটি ঘটনা, যেখানে আমি শুধু ভাগ্যবান ছিলাম।’
সূত্র : বিবিসি







