সাধারণ পরিষদে তোপ গুতেরেসের
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকাকে বঞ্চিত রাখা চরম অবিচার

ছবি: রয়টার্স
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার সর্বোচ্চ সংস্থা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকা মহাদেশকে স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত রাখাকে 'চরম অন্যায় ও অন্যায্য' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে (UNGA 81) বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে মহাসচিব এই তীব্র ঐতিহাসিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুর চড়ান।
জাতিসংঘের অফিশিয়াল নিউজ পোর্টাল ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউ ইয়র্কের সদর দপ্তরে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন মহাসচিব। বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপর ১৯৪৫ সালে যখন জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশই ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতিতে আফ্রিকাকে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ থেকে দূরে রাখা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অবিচার।'
গাণিতিক বৈষম্য ও আফ্রিকার দাবি:
জাতিসংঘের নিজস্ব পরিসংখ্যান ও আফ্রিকা ইউনিয়নের (AU) নথিপত্র অনুযায়ী:
১. সদস্য সংখ্যা: জাতিসংঘের মোট ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৫৪টি দেশই আফ্রিকা মহাদেশের, যা মোট সদস্য সংখ্যার চারভাগের একভাগের চেয়েও বেশি।
২. শান্তিরক্ষা মিশন: বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘের প্রধান প্রধান শান্তিরক্ষা মিশনের (UN Peacekeeping) অধিকাংশ বাস্তবায়ন ও ভুক্তভোগী অঞ্চল আফ্রিকা।
৩. স্থায়ী পদের অবস্থা: এসব সত্ত্বেও ভিটো ক্ষমতা সম্পন্ন নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্য পদের (P5) মধ্যে আফ্রিকার একটি আসনও নেই।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ইজুলউইনি কনসেনসাস:
আফ্রিকা ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই 'ইজুলউইনি কনসেনসাস' (Ezulwini Consensus)-এর অধীনে ভিটো ক্ষমতাসহ নিরাপত্তা পরিষদে অন্তত ২টি স্থায়ী এবং ৫টি অস্থায়ী আসনের দাবি জানিয়ে আসছে।
মহাসচিব গুতেরেস তার মেয়াদের শেষভাগে এসে আফ্রিকান নেতাদের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, 'জলবায়ু সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আঞ্চলিক সংঘাতের এই যুগে নিরাপত্তা পরিষদের বৈধতা ধরে রাখতে হলে আফ্রিকাকে অবশ্যই তার ন্যায্য আন্তর্জাতিক মর্যাদা দিতে হবে।'
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঐতিহাসিক এই ভুল সংশোধন না করা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদ পুরোপুরি কার্যকর হতে পারবে না।
তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৮১তম অধিবেশন প্রেস বিজ্ঞপ্তি, UN News ও আল জাজিরা ডিপ্লোম্যাটিক রিপোর্ট



