গাজার ক্ষত সারাতে ‘মানবিক হাত’ ব্রিটেনের
- ৯ লাখ মানুষের চিকিৎসা বিস্ফোরণে আহত এক হাজার শিশুর পুনর্বাসন দেড় লাখ মানুষের নিরাপদ পানি

একটি শিশুর জন্য কৃত্রিম অঙ্গ, একটি পরিবারের জন্য নিরাপদ পানির ট্যাংকার, যুদ্ধবিধ্বস্ত পাড়ার জন্য আবার চালু হওয়া চিকিৎসাকেন্দ্র। গাজায় কোটি কোটি পাউন্ডের সহায়তা শেষ পর্যন্ত এমন ছোট ছোট প্রয়োজনেই মানুষের কাছে পৌঁছাবে। সে লক্ষ্যেই ফিলিস্তিনিদের মানবিক সহায়তা ও প্রাথমিক পুনরুদ্ধারে ৮ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডের বড় প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য।
গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এই সহায়তার কথা ঘোষণা করেন। গতকাল শুক্রবার ব্রিটিশ সরকারের প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, অর্থটি গাজা ও পশ্চিমতীরে স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সুরক্ষায় ব্যয় হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্রিটিশ অর্থায়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯ লাখ মানুষ চিকিৎসা পরামর্শ পাবেন। বিস্ফোরণে আহত এক হাজার শিশুকে পুনর্বাসন ও কৃত্রিম অঙ্গের চিকিৎসা, ৯ লাখ মানুষের জন্য কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জরুরি ট্যাংকারের মাধ্যমে দেড় লাখ মানুষের নিরাপদ পানি এবং ২১ হাজার মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
মিলিব্যান্ড বলেছেন, ‘গাজার বেসামরিক মানুষের জন্য বাধাহীনভাবে সাহায্য পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি জানিয়েছেন, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা মানুষের জন্যই এই বড় প্যাকেজ দিচ্ছে লন্ডন। একই সঙ্গে ইসরায়েল সরকারকে মানবিক সহায়তা প্রবেশে ব্রিটেনের ‘কল টু অ্যাকশন’ মেনে চলতে এবং লন্ডনের ভাষায় গাজার ওপর থাকা ‘অগ্রহণযোগ্য বিধিনিষেধ’ প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ব্রিটেন, জর্ডান ও কাতার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের পাশে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও আয়োজন করেছে। সেখানে আঞ্চলিক দেশ, জাতিসংঘ, নাগরিক সমাজ, ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক দাতাদের নিয়ে ত্রাণ পৌঁছানো, স্বাস্থ্যসেবা এবং গাজার পুনরুদ্ধারের বাস্তব পথ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পৃথক যৌথ আহ্বানে ব্রিটেনসহ আট দেশ ইসরায়েলকে সব উপলব্ধ সীমান্তপথ ব্যবহার করে দ্রুত ও বাধাহীন ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ, ক্রসিংয়ের সক্ষমতা এবং সময় বাড়ানো ও অপ্রত্যাশিত কোটা এবং প্রশাসনিক বিলম্ব দূর করার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তাদের মানবিক সহায়তায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ১৪ লাখের বেশি মানুষ নিয়মিত খাদ্যসহায়তা পেয়েছেন এবং ৮ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি পরিষেবা উন্নত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ফিলিস্তিনিদের মানবিক সহায়তা ও প্রাথমিক পুনরুদ্ধারে ব্রিটেনের অঙ্গীকার ৮ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডের বেশি; ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফিলিস্তিনের জন্য দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহায়তার বাজেট ১২ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড। নতুন প্যাকেজে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ ও জাতিসংঘ হরাইজন তহবিলের জন্য আগে ঘোষিত সহায়তার পাশাপাশি নতুন অর্থও রয়েছে।



