Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
অসহায় প্রাণী থেকে মানুষ, সবার পাশেই বাচ্চু
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় বিদেশ

চার মহাসংকটে বিশ্ব, সতর্ক করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

রুমানা রাখি, যুক্তরাজ্য থেকে
agamir somoy
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১৯
চার মহাসংকটে বিশ্ব, সতর্ক করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

ছবি: রয়টার্স

যুদ্ধ, বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—এই চার মহাসংকট এখন বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পুরোনো ফাটলগুলো এখন পরিণত হয়েছে গভীর খাদে। বিশ্ব যদি এসব সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও দুর্বল হয়ে পৃথিবী প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিবলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে।

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী ভাষণে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি। মহাসচিব হিসেবে তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হতে প্রায় ১০০ দিন বাকি থাকা অবস্থায় দেওয়া এই ভাষণে গুতেরেস বিশ্বের বর্তমান সংকটগুলোকে বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে না দেখে ক্ষমতার পরিবর্তনশীল কাঠামোর অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় ক্ষমতা অন্যদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা নয়; বরং এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা, যা সবার জন্য কাজ করে। তবে বর্তমান বিশ্বে ক্ষমতার ব্যবহার ক্রমেই  এগোচ্ছে সংঘাত, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণের দিকে।

গত এক দশকের পরিস্থিতি তুলে ধরে গুতেরেস বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন দুর্বল হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, মানবিক সহায়তাকর্মীরা নিহত হচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থাও কমেছে।

তার ভাষায়, বিশ্বের বিভাজনের রেখাগুলো ক্রমেই প্রশস্ত হচ্ছে এবং 'ফাটলগুলো এখন গভীর খাদে পরিণত হয়েছে।'

বিশ্বে ক্ষমতার কাঠামো তিনটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন গুতেরেস। নতুন রাষ্ট্রীয় শক্তির উত্থান ঘটছে, সরকার থেকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির হাতে চলে যাচ্ছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র এমন সব সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে, যেগুলো একসময় শুধু মানুষের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

যুদ্ধ ও শান্তিকে প্রথম বড় সংকট হিসেবে তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন, সুদান ও মিয়ানমারের সংঘাতের কথা। গুতেরেস বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বাস্তবে অনেক সময় পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে পরিণত হচ্ছে না। সহিংসতার মাত্রা কিছুটা কমলেও বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটছে এবং মানবিক সংকট চলছেই।

গাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা নষ্ট করে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের দাবিও আবার সামনে আনেন মহাসচিব। বিশেষ করে আফ্রিকার কোনো দেশের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ না থাকাকে তিনি অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।

দ্বিতীয় বড় সংকট হিসেবে অর্থনৈতিক বৈষম্যের কথা তুলে ধরে গুতেরেস বলেন, বিশ্বে সম্পদের পরিমাণ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছালেও কোটি কোটি মানুষ এখনো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

তার মতে, বৈষম্য শুধু অর্থের প্রশ্ন নয়। কে সুযোগ পাবে, কার হাতে সম্পদ থাকবে এবং কে নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারবে—এসবও ক্ষমতার প্রশ্ন।

তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় অনেক উন্নয়নশীল দেশ ঋণের ভারে চাপে রয়েছে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তুলনামূলকভাবে কম দায়ী এসব দেশই বড় ধরনের জলবায়ু বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছে। এ কারণে দ্রুত ঋণ সহায়তা, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আরও শক্তিশালী ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিশেষ উত্তোলন অধিকারে ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

নারী-পুরুষ সমতার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন গুতেরেস। তিনি জানান, সংস্থাটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব, সদর দপ্তরের কর্মী এবং পেশাজীবী পর্যায়ে পূর্ণ লিঙ্গসমতা অর্জিত হয়েছে। তার ভাষায়, 'সমতা কোনো স্বপ্ন নয়, এটি একটি সিদ্ধান্ত।'

তৃতীয় বড় সংকট জলবায়ু পরিবর্তন। এটিকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গভীর আন্তঃপ্রজন্মগত ক্ষমতার বৈষম্য হিসেবে বর্ণনা করেন গুতেরেস। তিনি সতর্ক করেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করার ঝুঁকি প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠছে।

তিনি দূষণকারীদের আরও বেশি আর্থিক দায় নেওয়ার আহ্বান জানান এবং উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন তিন গুণ করার দাবি জানান। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বর্তমান অর্থায়ন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

চতুর্থ মহাসংকট হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সামনে আনেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, তথ্য, গণনাশক্তি ও অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।

গুতেরেস বলেন, প্রযুক্তি নিজে বিপদ নয়; বরং জবাবদিহিহীন প্রযুক্তিই বড় বিপদ। শিশুদের অনিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার পরীক্ষার বিষয় বানানো যাবে না এবং মানুষের জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত কখনোই যন্ত্রের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, 'ঘাতক রোবটের আমাদের ভবিষ্যতে কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়।'

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাধীন তদারকিসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি বহুপক্ষীয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণের শেষ দিকে গুতেরেস বলেন, শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার পর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই উপলব্ধি থেকে যে, কোনো দেশের ভবিষ্যৎ অন্য দেশগুলোর ভবিষ্যৎ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।

দায়িত্বে থাকা বাকি সময়েও জাতিসংঘ সনদের মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক নিয়মের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন আন্তোনিও গুতেরেস।

জাতিসংঘজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদআন্তোনিও গুতেরেস৮১তম অধিবেশন
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন: