রাজা-মহারাজা সবাই চীনের দরবারে

‘মহারাজা’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘মহাপরাক্রমশালী রাজা’ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সবাই এখন চীনের দরবারে। কেউ উড়ে আসছেন ১৫ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে। আর কেউ আসছেন সীমান্তের পাশের প্রতিবেশী দেশ থেকে। বিশ্ব শাসনের দিকনির্দেশনা নিয়ে যাচ্ছেন বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল’ দপ্তর থেকে। তোষামোদ তো আছেই, বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে দিয়ে যাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের উপঢৌকনের ডালা। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলের মসনদে বসে মুচকি হেসে তা উপভোগ করছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের অবস্থান এখন এমনই; চোখধাঁধানো বাস্তবতা। ইরানের মানচিত্র মুছে দিতে গিয়ে মুখে ফেনা উঠে যাওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কদিন আগেই (১৩-১৫ মে) ঘুরে গেছেন চীনের দরবারে। এর পরপরই এলেন আরেক মহারথী প্রেসিডেন্ট পুতিন। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কয়েক বছর ধরেই বেশ বিপাকে রয়েছেন তিনি। ভরসা একটাই— চীন। একই আশা নিয়ে দরবারে এসেছিলেন ট্রাম্পও। বুঝিয়ে-সুজিয়ে, কিংবা বিকল্প কোনো উপায়ে হলেও তেহরানের মাথা যেন ঠান্ডা করে বেইজিং। লাভ হয়নি। ফিরে গেছেন ফাঁকা বুকে; শূন্য হাতে। কিন্তু পুতিনের বেলায় উল্টো। দুদিনের সফরে এসে ‘কোল ভরে’ ফিরে গেলেন নিজ দেশে।
ট্রাম্পের পর এবার জিনপিংয়ের দুয়ারে পুতিন
বিশ্বের দুই বড় শক্তিকে চীন কীভাবে বরণ করেছে— ঘাড় ঘুরিয়ে তা দেখছেন বাকি ইউরোপ-এশিয়ার রাজা-মহারাজারাও। মে ১৯-২০, দুদিনের সফরে চীন সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটের কিছুক্ষণ পর পৌঁছান তিনি। এক বছরের মাথায় পুতিনের এটি দ্বিতীয় চীন সফর। দুই দশকেরও বেশি সময় সব মিলিয়ে ২৫ বার চীনে এসেছেন পুতিন। ওদিকে ইরান যুদ্ধে চীনের সহায়তা পেতে প্রায় ৯ বছর পর চীন সফরে যান ট্রাম্প। তার আপ্যায়নে কোনো ধরনের ত্রুটি রাখেননি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিন দিনের সফরে কূটনৈতিক আলোচনাসহ নৈশভোজ, মন্দির ভ্রমণ ছিল তার কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। পুতিনকে কিন্তু আবার এত আপ্যায়ন করেননি শি। তবে ‘ঘরের ছেলে’র টানটা পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে দুদেশের লেনদেন ও মার্কিন সাম্রাজ্যবিরোধী বক্তব্যে।
দুই প্রেসিডেন্টই উড়ে এসে নামেন চীনের বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে। দুজনের জন্যই পাতা হয় লাল টুকটুকে কার্পেট। ট্রাম্পকে হাসিমুখে বরণ করতে আসেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। তবে একই লালগালিচায় পুতিনকে নিতে আসেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ট্রাম্প ও পুতিনের সঙ্গী হয়ে আসা প্রতিনিধিদের মধ্যেও ছিল চোখে পড়ার মতো ভিন্নতা। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সঙ্গে আনেন দেশটির বড় সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের; সেখানে পুতিনের পাশে আসেন নিরাপত্তাকর্মী এবং মুষ্টিকতক ব্যাংক ও তেল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। অথচ ছোট বহরে এসেও ৪০ চুক্তির নজরকাড়া সোনার তরীতে ফিরলেন পুতিন।




