যন্তর মন্তরে বাধা, রাজপথে জনস্রোত
- ক্ষোভে ফুঁসছে দিল্লি

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিরোধী জোটের মিছিল ঘিরে দিল্লির রাজপথে জনস্রোত। গতকাল সোমবার রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক ছবিটা কার্যত দুটি সমান্তরাল আন্দোলনের। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বিধিনিষেধ এবং বিরোধীদের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বৈঠক না হওয়ার মধ্যেই এদিন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদবসহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা পথে নামলেন। তাদের মিছিল ঘিরে কেন্দ্রীয় দিল্লিতে তৈরি হলো বিপুল জমায়েত। রাজপথের প্রতিবাদের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশনও দাখিল করলেন বিরোধী নেতৃত্ব।
যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি না পাওয়াই সিজেপির আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লি পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং সিবিডি ময়দানে বিক্ষোভ ও ধরনার অনুমতি দেওয়া হবে। যন্তর মন্তরকে সে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় আপত্তি জানিয়েছে সিজেপি। সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংসদ মার্গ থানায় বিক্ষোভের জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। পুলিশের জবাবের জন্য সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন তারা। ফলে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
এ পরিস্থিতিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার উদ্যোগও নেয় সিজেপি। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি তালিকাভুক্ত করার আবেদন গ্রহণ করা হয়নি গতকাল। আজ শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেও তাকিয়ে আন্দোলনকারীরা।
অন্যদিকে, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিরোধীদের রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই নতুন মাত্রা পেল। রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খড়গেসহ বিরোধী নেতারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় তাদের সঙ্গে বৈঠকে সম্মতি দেননি প্রধান বিচারপতি। এরপরই আদালতের আইনিপ্রক্রিয়ায় এগোনোর সিদ্ধান্ত নেয় বিরোধী শিবির।
গতকালের মিছিল ঘিরে দিল্লির রাজপথে বিপুল জমায়েত হয়। বিরোধী নেতৃত্বের উপস্থিতিতে মিছিলের সামনের সারিতে ছিল জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর), ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হন তারা। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম আবার নথিভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
রাজপথের মিছিলের পর সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়গে, সৌগত রায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী প্রসাদ যাদব, সঞ্জয় রাউত, এম এ বেবি, ডি রাজা, মহুয়া মাজি, সুপ্রিয়া সুলে, মহম্মদ বশিরসহ বিরোধী নেতারা।
এখন নজর আদালতের দিকে। একদিকে বিক্ষোভের স্থান নিয়ে প্রশাসনিক বাধা, অন্যদিকে রাজপথে জনসমাবেশ এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়া— গতকাল দিল্লির রাজনীতিতে এই তিনটি ঘটনাই হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।



