বীরগঞ্জ
রাস্তা নিয়ে বিরোধে দম্পতিকে মারধর, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

বীরগঞ্জে এক দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সংগৃহীত ছবি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে এক দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মো. আবদুল হাই সরকার নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত শনিবার উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আবদুল হাই একই এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সার্কেলের এএসপি।
মারধরের শিকার দম্পতি হলেন, প্রদীপ দেবনাথ ও তার স্ত্রী অনন্যা দেবনাথ।
প্রদীপ দেবনাথ বললেন, ‘রাস্তা বন্ধ করে প্রাচীর নির্মাণ করছিলেন এএসপি হাই। এতে বাধা দিতে গেলে তিনি আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলামকে জানালে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন তিনি। এরপর থানায় লিখিত অভিযোগ দেই।’
অভিযোগ থেকে জানা যায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে প্রদীপ দেবনাথের চলাচলের রাস্তার ওপর সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন হাই। এতে বাধা দিলে তাকে গালাগালি করা হয়। একপর্যায়ে কাঠের লাঠি ও কোদাল দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে অনন্যাকেও মারধর করা হয়। রাস্তাটি তাদের বাপ-দাদার আমল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি রেকর্ডভুক্ত। কিন্তু গায়ের জোরে সেটি বন্ধ করতে চাইছেন এএসপি হাই।
প্রদীপের দাবি, প্রায় তিন মাস আগে রাস্তাটি বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়। কিন্তু গত শনিবারে হঠাৎ রাস্তার ওপর প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। রাস্তা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে বললে ক্ষেপে যান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
এএসপি হাই জানান, বিরোধপূর্ণ জমির মালিক তিনি। তবে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে তিনি ছয় ফুট প্রশস্ত রাস্তা রাখার ব্যবস্থা করেছেন। একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে হাই বললেন, ‘আমি প্রদীপের গায়ে হাত তোলার উদ্দেশ্যে কিছু করিনি। বরং সে আমার মিস্ত্রিদের দিকে তেড়ে এসেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে গায়ে হাত লেগে থাকতে পারে। কিন্তু ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে বলে আমি মনে করি।’
শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মতি বললেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কেউ আমার কাছে আসেননি। অভিযোগ নিয়ে কেউ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বীরগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বললেন, ‘আমি অভিযোগ হাতে পেয়েছি। থানা থেকে একটি টিম পাঠাব। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




