ঈশ্বরদী
নিজেরাই কমিটি ঘোষণা করলেন বিএনপির পদবঞ্চিত নেতারা

ছবি: আগামীর সময়
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের। চলতি বছরে সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই দ্বন্দ্ব আরও দৃঢ় হয়। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ও তার পক্ষে কাজ করায় বেশ কিছু নেতাকর্মীকে তৎকালীন সময়ে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সম্প্রতি ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা নিজেরাই ঈশ্বরদীর অন্তর্গত সাতটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার অন্তর্গত নয়টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করেছেন।
আজ সোমবার বিকালে ঈশ্বরদী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সাতটি ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করেন উপজেলা বিএনপির স্বঘোষিত আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও পৌরসভার অন্তর্গত নয়টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করেন পৌর বিএনপির স্বঘোষিত আহ্বায়ক ইসলাম হোসেন জুয়েল।
এ সময় উপজেলা বিএনপির স্বঘোষিত সদস্য সচিব সাহাব উদ্দীন সেন্টু, পৌর বিএনপির স্বঘোষিত সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন জনি, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েলসহ কয়েক শ পদবঞ্চিত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ‘তারা বছরের পর বছর ধরে দলের জন্য মার খেয়েছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। অথচ বর্তমানে দলের দুঃসময়ের তাদের মূল্যায়ন না করে একটি সুবিধাবাদী মহলকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। দলের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এবং সাধারণ কর্মীদের আবেগ-অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তারা এই নতুন কমিটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন।’
এর আগে গত ২২ আগস্ট (শনিবার) রাতে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ স্বাক্ষরিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্য সচিব করা হয়। একই সঙ্গে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির কমিটিতে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্য সচিব করা হয়।
প্রায় ১ মাস পর (২৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলা কমিটিকে আরও ৪৮ সদস্য ও পৌর কমিটিকে ৩৭ সদস্যের পূর্নাঙ্গ আকারে প্রকাশ করে জেলার নেতৃবৃন্দ।
সে সময় কমিটি গঠনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরা কয়েক দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। পরে ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় ২৪ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা বিএনপি ও ২২ সদস্য বিশিষ্ট পৌর শাখার প্যারালাল কমিটি ঘোষণা করেন পদবঞ্চিতরা। ঘোষিত সেসব কমিটিতে অনুমোদনকারী হিসেবে তৃনমুল বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষে সাক্ষর করেন পাবনা জেলা বিনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।
তবে সদস্য ঘোষিত এসব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিকে ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী’ ও ‘অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপি নেতারা। তাদের দাবি, ব্যক্তিস্বার্থ পূরণ না হওয়ায় একটি পক্ষ দলের বিপক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ জানালেন, বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে আলাদা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কিছু নেই। তারা বিএনপির নীতি আদর্শ মেনে চলেন না। তারা নিজেরাই তৃণমূল বিএনপির পক্ষে কমিটি ঘোষণা করেছেন। সুতরাং এ বিষয়ে তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা তৈমুর আলম খন্দকার ভালো বলতে পারবেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনের ভাষ্য, বিএনপি একটি বৃহত্তম দল। দুই-একজন নেতাকর্মী পথভ্রষ্ট হলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়বে না।
তিনি জানালেন, বিএনপির সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম তারেক রহমানের নির্দেশে পরিচালিত হয়। সুতরাং তিনি জেনে বুঝেই বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করেছেন। তবে দলীয় ছবি, ব্যানার ও বিলবোর্ড ব্যবহার করে যারা বিএনপিকে বিতর্কিত করতে চাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।




