বরফ গলল অবশেষে, নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা মমতার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
দুই মাসের রাজনৈতিক টানাপড়েনের পর অবশেষে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানালেন তৃণমূল নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও অভিনন্দনের বার্তার মধ্যেও বিজেপি সরকারকে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ করতে ছাড়েননি তিনি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মমতা বলেছেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি তার শুভেচ্ছা রয়েছে। সরাসরি নাম না নিলেও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যিনি আজ রাজ্যের নেতৃত্বে রয়েছেন, তিনি একসময় দীর্ঘদিন তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। সেই সূত্রে শুভেন্দুর রাজনৈতিক অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
মমতার বক্তব্যে উঠে আসে শুভেন্দুর মন্ত্রীত্বের দিনগুলির প্রসঙ্গও। তিনি বলেছেন, পরিবহন, সেচসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাজে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। হলদিয়া ও দিঘার উন্নয়নসংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পে তার অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।
তবে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নিজের পুরনো অবস্থান থেকেও সরেননি মমতা। তার দাবি, ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তবুও গণতান্ত্রিক রীতি মেনে নতুন সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত বলেই তিনি মনে করেন। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানোর বদলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেছেন, ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের ওপর চাপ সৃষ্টি না করার জন্যও তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তার সতর্কবার্তা, প্রতিশোধের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কারও জন্যই শুভ ফল বয়ে আনে না। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জনজীবনের সমস্যার দিকেও সরকারের নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।
হকারদের উচ্ছেদ নিয়ে উদ্বেগ, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে সরকারকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মমতার বক্তব্য, মানুষের স্বার্থে গঠনমূলক উদ্যোগ নেওয়া হলে বিরোধিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয় সহযোগিতাই করবে তার দল। রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের তিক্ততার পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানানো রাজ্যের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা। যদিও সেই শুভেচ্ছার আড়ালেও যে বিরোধিতার সুর অটুট রয়েছে, মমতার বক্তব্যে তা স্পষ্ট।





