ভারতের ছাত্র আন্দোলনে শূন্যে গুলি, পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

ছবি: রয়টার্স
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে শূন্যে গুলি চালানোর ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দেশটিতে ছাত্র ও তরুণদের বিক্ষোভের মধ্যেই এটি ঘটে। এসব বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অন্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, শনিবার বিহারের পূর্বাঞ্চলীয় শহর সিওয়ানে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের পোশাক পরা এক পুলিশ সদস্য বিক্ষোভকারীদের একটি দলের দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন। তার হাতে ছিল একে-৪৭ রাইফেল। তিনি বিক্ষোভকারীদের দিকে অস্ত্র তাক করে অন্তত তিনটি গুলি শূন্যে ছোড়েন। পুলিশও ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
পুলিশের উপমহাপরিদর্শক কুমার সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘কনস্টেবলটি একে-৪৭-এর অপব্যবহার করেছেন। কোনোভাবেই এর যৌক্তিকতা নেই। তারা শিক্ষার্থী ছিল। এমনটি করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এ কারণেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিহার পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নীলেশ কুমার জানিয়েছেন, এতে কেউ আহত হননি। গোয়েন্দা ইউনিটের এক কনস্টেবলকে ওই রাইফেল দেওয়া হয়েছিল। ইউনিটটি ‘ভয়ংকর ও দুর্ধর্ষ অপরাধীদের’ নিয়ে কাজ করে।
দিল্লিসহ সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার ঘটনাও রয়েছে। গত ২০ জুলাই রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংসদ অভিমুখে মিছিল করা কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে ঠেকাতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
গত মে মাসে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেওয়া জাতীয় মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এই বিক্ষোভ শুরু হয়। এর ফলে আবার পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর পাশাপাশি তরুণদের বেকারত্ব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কাও বিক্ষোভের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যাক-অফিসের মতো যেসব কাজের জন্য দেশটি পরিচিত, সেসব চাকরি নিয়ে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে ‘যুব ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে তরুণদের বিক্ষোভ চলার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স




