বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়ল কয়েক দফা, প্রতিবেশীদের কী চিত্র

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্বাভাবিক ওঠানামার মধ্যেই দেশে আবারও বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। আজ সোমবার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। ফলে নতুন দরে দেশে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা।
গত ছয় মাসের হিসাবে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এপ্রিলের শুরুতে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ছিল ১১৬ টাকা। এরপর এপ্রিলেই তা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং জুনে আরও ৫ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা হয়। আজকের নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর ছয় মাসের ব্যবধানে পেট্রলের দাম বেড়েছে ৪৪ টাকা বা প্রায় ৩৮ শতাংশ।
ডিজেলের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিলের শুরুতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা। এপ্রিলেই তা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। এরপর কয়েক মাস দাম অপরিবর্তিত থাকার পর আজ আরও ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৩৫ টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে ডিজেলের দাম বেড়েছে ৩৫ টাকা বা ৩৫ শতাংশ।
বাংলাদেশে যখন নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো, তখন একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও জ্বালানি বাজারে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে সব দেশে দাম একই ধারায় বাড়েনি। কোথাও এক দফা বেড়ে পরে স্থির থেকেছে, কোথাও আবার বড় ধরনের ওঠানামা হয়েছে।
প্রতিবেশীদের চিত্র
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এপ্রিলের শুরুতে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ছিল ৯৪.৭৭ ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ১২০ টাকা। ডিজেলের দাম ছিল ৮৭.৬৭ রুপি, যা প্রায় ১১১ টাকা। মে মাসে পেট্রলের দাম বেড়ে ১০২.১২ রুপি বা প্রায় ১৩০ টাকা এবং ডিজেল ৯৫.২০ রুপি বা প্রায় ১২১ টাকা হয়। এখন পর্যন্ত দাম একই অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ ছয় মাসের হিসাবে ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৮ থেকে ৯ শতাংশ।
পাকিস্তানের বাজারে অবশ্য ওঠানামা ছিল অনেক বেশি। এপ্রিলের শুরুতে সেখানে পেট্রোলের দাম এক দফায় বেড়ে প্রায় ৪৫৮ পাকিস্তানি রুপিতে উঠেছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ২০৩ টাকা। একই সময়ে ডিজেলের দাম উঠেছিল প্রায় ৫২০ রুপি বা ২৩১ টাকা। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম কমতে থাকে। আগস্টের শেষ দিকে পেট্রলের দাম নেমে আসে প্রায় ৩৪২ রুপি বা ১৫১ টাকায় এবং ডিজেল ৩৭১ রুপি বা ১৬৫ টাকায়।
তবে সেপ্টেম্বরে আবার দাম বাড়তে শুরু করে পাকিস্তানে। সর্বশেষ হিসাবে সেখানে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ৩৮৯.১৪ পাকিস্তানি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭২ টাকা। ডিজেলের দাম ৪২৪.০৪ রুপি বা প্রায় ১৮৮ টাকা। অর্থাৎ এপ্রিলের তুলনায় বর্তমান দাম কম হলেও আগস্টের নিম্ন পর্যায় থেকে সেপ্টেম্বরে আবার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার জ্বালানি বাজারেও গত ছয় মাসে একাধিকবার দাম পরিবর্তন হয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে সেখানে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ছিল ৩৯৮ শ্রীলঙ্কান রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪৮ টাকা। ডিজেলের দাম ছিল ৩৮২ রুপি বা প্রায় ১৪২ টাকা। মে মাসে পেট্রলের দাম বেড়ে ৪৩৪ রুপি বা প্রায় ১৬১ টাকা এবং ডিজেল ৪০৭ রুপি বা প্রায় ১৫১ টাকায় ওঠে। পরে দাম কমে সর্বশেষ হিসাবে পেট্রল ৩৯৯ রুপি বা প্রায় ১৪৮ টাকা এবং ডিজেল ৩৮২ রুপি বা প্রায় ১৪২ টাকা হয়েছে। ফলে ছয় মাসের শুরু ও শেষের দাম তুলনা করলে শ্রীলঙ্কায় পেট্রল ও ডিজেলের দামে বড় কোনো নিট পরিবর্তন নেই।
নেপালেও গত ছয় মাসে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা হয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে কাঠমান্ডু উপত্যকায় প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ছিল ২০২ নেপালি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮০ টাকা। ডিজেলের দাম ছিল ১৮২ নেপালি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ১৬২ টাকা। এরপর এপ্রিলেই কয়েক দফা দাম বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে পেট্রলের দাম ২১৯ রুপি বা প্রায় ১৯৫ টাকা এবং ডিজেল ২৩৭ রুপি বা প্রায় ২১১ টাকায় ওঠে।
মে মাসে ওই দাম অপরিবর্তিত থাকলেও জুনে পেট্রলের দাম কমে ১৯৭ রুপি বা প্রায় ১৭৫ টাকা এবং ডিজেল ১৯৫ রুপি বা প্রায় ১৭৪ টাকায় নেমে আসে। জুলাইয়েও একই দাম বহাল ছিল। আগস্টে পেট্রল ও ডিজেল উভয়ের দাম ২০০ নেপালি রুপি বা প্রায় ১৬০ টাকা করা হয়। বর্তমানে নেপালে প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজেলের দাম ২০০ নেপালি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬০ টাকা। ফলে এপ্রিলের শুরুর তুলনায় বর্তমানে নেপালে পেট্রলের দাম প্রায় ২০ টাকা কম, আর ডিজেলের দাম প্রায় ২ টাকা কম।
সব মিলিয়ে, গত ছয় মাসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের দামে কমবেশি ওঠানামা দেখা গেছে। তবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় পরিবর্তন তুলনামূলক কম, আর পাকিস্তান ও নেপালে ছিল বড় ওঠানামা।
তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ওয়েবসাইট




