বিজেপি বলছে ‘গণতন্ত্রের জয়’

ত্রিশ বছর আগের ইতিহাস। ১৯৯৬ সালের মে মাসে ভারতের লোকসভায় আস্থা ভোটের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপির প্রথম সভাপতি অটল বিহারি বাজপেয়ি বলেছিলেন, ‘ক্ষমতার খেলা চলতেই থাকবে। সরকার আসবে, যাবে। দল গড়বে, ভাঙবে, কিন্তু এই দেশকে থাকতে হবে, এই দেশের গণতন্ত্রকে অমর থাকতে হবে।’ তিন দশক পর গতকাল শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তর ঘিরে সেই গণতন্ত্র নিয়েই দুই বিপরীত ভাষ্য সামনে এলো। পথে পথে ব্যারিকেড। আকাশে ড্রোন। বন্ধ মেট্রোস্টেশন। হাজার হাজার মানুষ আটক। আর যে দলের প্রথম সভাপতি ছিলেন বাজপেয়ি, সেই ক্ষমতাসীন বিজেপির ঘোষণা, এটি ‘গণতন্ত্রের জয়’।
দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা যন্তর মন্তরের কর্মসূচিকে ‘ফ্লপ শো’ বলেছে বিজেপি। দলের সাংসদ সম্বিত পাত্র বলেছেন, ‘গণতন্ত্র জনতার উচ্ছৃঙ্খল শাসনের ওপর জয়ী হয়েছে।’ তার দাবি, দিল্লি ও দেশকে জিম্মি করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
কর্মসূচির পেছনে ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ। আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং ভোটার নিবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ নথি পরিবর্তনের অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘নৈরাজ্য’ তৈরির অভিযোগ করেছেন। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও সিজেপিকে তিনি দুটি ‘নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠী’ আখ্যা দিয়েছেন। তার অভিযোগ, বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তবে ওই দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ তিনি দেননি।
অন্যদিকে, যন্তর মন্তরে পৌঁছানোই ছিল দিনের সবচেয়ে কঠিন কাজ। দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। কেন্দ্রীয় দিল্লি নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢেকে ফেলা হয়। শুধু বিকালেই প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষকে বিভিন্ন আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলেছে, এগুলো প্রতিরোধমূলক আটক। সিজেপির নেতা বা স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে তখন পর্যন্ত এমন কোনো মামলা হয়নি, যার ভিত্তিতে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো যায়। আটকদের মধ্যে রয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও রত্না সিং। দীপকে, দাস ও রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই আটক করা হয়। গুরুগ্রাম থেকে আটক হন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। আটক হয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোডিয়া, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, মানিক সরকার, যোগেন্দ্র যাদব ও ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকেও যন্তর মন্তরের কাছ থেকে আটক করা হয়।
নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিলেন হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য। বহু সড়কে বসানো হয় তিন স্তরের ব্যারিকেড। বেশ কয়েকটি মেট্রোস্টেশন বন্ধ রাখা হয়। পুলিশ বলেছে, আয়োজকরা মাত্র তিন দিন আগে অনুমতি চেয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন প্রয়োজন। আগের কর্মসূচিতেও শর্ত ভাঙার অভিযোগ করেছেন তারা।



