ছেলে সেজে তরুণীকে বিয়ে, ছয় মাস পর সালিশে মারধরের অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ছেলে সেজে এক তরুণী আরেক তরুণীকে বিয়ে করার ঘটনার ছয় মাস পর জানাজানি হয়েছে। এ ঘটনায় সালিশ বসিয়ে বর পরিচয়ে বিয়ে করা তরুণীকে মারধর, কান ধরে ওঠবস করানো ও তওবা পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবারের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার পর্যন্ত এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে সালিশ বসে। সেখানে কনেকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বর পরিচয়ে বিয়ে করা তরুণী চাঁদনী আক্তারকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও কাবিননামা অনুযায়ী, বরিশাল গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের মেয়ে চাঁদনী আক্তার নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘রাসেল’ পরিচয়ে গত ১৫ এপ্রিল বিয়ে করেন। পলাশবাড়ী পৌরসভার হিজলগাড়ী গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে লাবনী আক্তারকে তিনি বিয়ে করেন। কাবিননামায় বরের নাম লেখা হয় ‘রাসেল’।
পরে বিয়ের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রথমে চাঁদনীর বাবা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে শুক্রবার সালিশের আয়োজন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসান মিয়া বলেন, সালিশ চলাকালে বাঁশের বেত দিয়ে চাঁদনীকে মারধর করা হয়। তাকে কান ধরে ওঠবসও করানো হয়। এ ছাড়া সালিশকারীরা তাকে প্যান্ট-শার্ট পরতে নিষেধ করেন।
সালিশে উপস্থিত পলাশবাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজ আহমেদ বলেন, এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ঘটনাটি মীমাংসা করা হয়েছে।
তবে বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তার জানা নেই।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ঘটনাটি দেখেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি।




