বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার ডাক মমতার
- ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের বার্তা
- দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের জন্য খুলবে না তৃণমূলের দরজা

কলকাতায় আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন মমতা
দলীয় ভাঙন, বিদ্রোহী শিবিরের পাল্টা সমাবেশ, বিরোধীদের আক্রমণ- এক অস্বস্তিকর রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ মঞ্চকে কার্যত ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ের রণকৌশল ঘোষণার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করার ডাক দেওয়ার পাশাপাশি দিল্লিতে চলা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের প্রতিও সমর্থনের বার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের উদ্দেশে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাদের জন্য আর তৃণমূলের দরজা খুলবে না।
কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মঙ্গলবার আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বললেন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই এখন আরও তীব্র হবে।’
তিনি জানান, আগামী দিনে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন এবং আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করবেন। প্রয়োজনে দিল্লিতেও গিয়ে বিজেপি-বিরোধী আন্দোলনে শামিল হবেন বলেও ঘোষণা করেন। তার এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন দিল্লিতে সিজেপির আন্দোলন, পুলিশি সংঘর্ষ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।
বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে নিশানা করে একাধিক ইস্যু তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। দলীয় প্রতীক নিয়ে চলা বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বললেন, ‘প্রতীক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও লড়াই ছাড়ব না। প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব।’ এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে এদিনের বক্তৃতার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল দলত্যাগীদের নিয়ে তার অবস্থান। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যাওয়া নেতা-সাংসদদের উদ্দেশে মমতা বলেন, 'যারা যেতে চান, বিজেপিতেই যান। জায়গা খালি হলে সেই জায়গা পূরণ করার জন্য ছাত্র-যুবরা রয়েছে।' আরও কড়া ভাষায় তিনি দাবি করেন, 'যারা চলে গিয়েছেন, তাদের আর দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না।'
পাশাপাশি তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দলত্যাগের নেপথ্যে কারা সক্রিয় ছিলেন, সে সম্পর্কেও তার কাছে তথ্য রয়েছে। মমতার এই অবস্থানকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেরই প্রকাশ্য সমর্থন হিসেবে দেখছেন। এর আগে অভিষেকও বিদ্রোহীদের আর দলে না নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। মমতা কার্যত সেই অবস্থানেই সিলমোহর দেন। একই সঙ্গে বিদ্রোহীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে বলেছেন, তারা যদি বিজেপির রাজনীতি করতে চান, তাহলে প্রকাশ্যেই সেখানে যোগ দেওয়া উচিত।
সভা থেকে ইন্ডিয়া জোটের দলগুলোর প্রতিও ঐক্যের বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী। বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি মতভেদ ভুলে একসঙ্গে লড়াইয়ের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, একই দিনে বিদ্রোহী শিবির থেকেও মমতা ও অভিষেককে তীব্র আক্রমণ করা হয়। প্রবীণ নেতা মদন মিত্র প্রকাশ্যে মমতাকে বিদ্রোহী শিবিরে আসার আহ্বান জানিয়ে দাবি করেন, তাকে কেউ অসম্মান করবে না। একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব তৈরির পরামর্শও দেন তিনি। এই পাল্টা বার্তা রাজ্যের শাসক শিবিরের অন্দরের দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে।




