নিট কেলেঙ্কারি : আত্মহত্যা, বিক্ষোভ, অতঃপর মন্ত্রীর পদত্যাগ

ফাইল ছবি
ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন পরিণত হয়েছে জাতীয় ইস্যুতে। দুই মাসের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রশ্ন ফাঁসের কারণে আবার পরীক্ষার সিদ্ধান্ত, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে হাজারো শিক্ষার্থী।
ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট-ইউজি) প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় দেশ জুড়ে চলেছে আন্দোলন। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো শিক্ষার্থী করছে বিক্ষোভ। তাদের অভিযোগ, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতা অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তার মুখে ।
শনিবার আন্দোলনের চাপের মুখে পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
গত মে মাসে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সামনে এলে ফল প্রকাশ স্থগিত করে সরকার। একই সঙ্গে তদন্ত শুরু হয় এবং জুনে আবার পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে লাখো পরীক্ষার্থীকে আবারও প্রস্তুতি নিতে হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্তের পর অন্তত কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে তাদের পরিবারের দাবি। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, প্রথম পরীক্ষা বাতিল হওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাই তাদের সন্তানদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।
নয়াদিল্লির আন্দোলনস্থলে রয়টার্সকে শেখ সানা নামের এক শিক্ষার্থীর বাবা শেখ জাফর হোসেন বললেন, তার মেয়েকে মেরে ফেলেছে পুনঃপরীক্ষার ভয়। পরীক্ষার আগের দিন একটি কাগজে ‘আমি দুঃখিত’ লিখে আত্মহত্যা করে ১৯ বছর বয়সী সানা।
রাজস্থান, গুজরাট ও তেলেঙ্গানায় আরও কয়েকজন পরীক্ষার্থীর মৃত্যুকেও পুলিশ আত্মহত্যা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। তবে এসব মৃত্যুর কারণ তদন্তাধীন। আত্মহত্যার সঙ্গে পুনঃপরীক্ষার সম্পর্ক নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
মে মাসের মাঝামাঝি ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই জানায়, কিছু শিক্ষক ও বেসরকারি কোচিং সেন্টারের এজেন্ট অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেছিল। এ ঘটনায় একজন চিকিৎসকসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং দ্রুত বিচার আদালতে মামলা পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এদিকে বিরোধী জোট নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, গত এক দশকে ১৫০টিরও বেশি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন শুধু প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদ নয়, এটি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং তরুণদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ।
ভারতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের অন্যতম প্রধান পথ নিট পরীক্ষা। কিন্তু সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের মাত্র ৬ শতাংশ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। ফলে একটি পরীক্ষার ফলাফল লাখো পরিবারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।




