আশিসের ভাই প্রশান্ত
রাতেও গল্প করলাম, বোঝাই যায়নি এমন কাণ্ড ও ঘটাবে

রামপুরহাটের সাবেক বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার ভাই প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় (বাঁ থেকে)। ছবি : সংগৃহীত
প্রতি রাতেই স্বজন ও পরিচিতদের নিয়ে জমে উঠত আড্ডা। গতকাল শনিবার রাতেও হয়নি তার কোনো ব্যতিক্রম। রাত ১২টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্য ও ভাইদের সঙ্গে বসে হেসেখেলে গল্প করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার ও প্রবীণ তৃণমূল নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরেই আজ রবিবার সকালে ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। নিজ বাড়ির সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর শোক আর স্তব্ধতা নেমে আসে তার পরিবারে।
পরিবারের দাবি, রাত পর্যন্ত আড্ডা দেওয়া প্রবীণ এই নেতার মুখ কিংবা আচরণ দেখে কখনোই মনে হয়নি তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন।
আশিসের ভাই প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তারা একসঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন।
প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘রাতেও আমরা একসঙ্গে বসে গল্প করলাম। বোঝাই যায়নি এমন কাণ্ড ও ঘটাবে। রাত ১২টা পর্যন্ত আমরা বাড়ির সবাই বসে গল্প করেছি। তার পর নিজেই খেতে উঠল, দরজা বন্ধ করল। সকালে এই খবর শুনলাম। বিশ্বাস করতে পারছি না।’
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এই মন্ত্রী ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি রামপুরহাট কলেজে দীর্ঘদিন শিক্ষকতাও করেছেন তিনি।
এদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে মেলে একটি সুইসাইড নোট। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ ধারণা করছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রবীণ এই নেতার আকস্মিক মৃত্যুতে বীরভূমের তৃণমূলত্যাগী এনসিপিআই সাংসদ অসিত মাল বলেছেন, ‘ভাবতেই পারছি না। মনে হচ্ছে সর্বস্ব শেষ হয়ে গেল। ওঁর কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। এমন মানুষ বেঁচে থাকলে কথা ও কাজের মাধ্যমে সমাজকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন।’
স্থানীয় তৃণমূল নেতা ত্রিদিব ভট্টাচার্য শোক প্রকাশ করে জানান, জনসেবাই ছিল তার মূল ব্রত। মানুষের উপকার ছাড়া কোনো দিন কারও ক্ষতি করেননি তিনি। রাজনৈতিক সততায় তার শত্রুও কোনো দিন প্রশ্ন তুলতে পারবে না।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা







