গণআন্দোলনে রূপ নেবে কি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

সংগৃহীত ছবি
মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলে দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। মজার ছলে শুরু হওয়া এই অনলাইন রাজনৈতিক প্রচার এখন ভারতের তরুণদের বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছে। অনেকেই এটিকে নেপাল ও বাংলাদেশের ছাত্র-যুব আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছেন। প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে এই আন্দোলনও কি বড় রাজনৈতিক গণআন্দোলনের রূপ নেবে?
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক আজ অভিযোগ করেছেন, তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা হয়েছে। আইনি নির্দেশের কথা বলে ভারতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এক্স অ্যাকাউন্ট।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, 'যা হওয়ার ছিল, সেটাই হলো।' যদিও ‘ ককরোচ ইজ ব্যাক’ নামে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে ফের সক্রিয় এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন।
সম্প্রতি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বেকার যুবকদের নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ‘আরশোলার মতো’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। সেই ঘটনার পরই ৩০ বছরের অভিজিৎ দীপক ‘কক্রোচ জনতা পার্টি’র প্রচার শুরু করেন। তিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং আগে আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন।
শুরুতে ব্যঙ্গাত্মক প্রচার হিসেবে দেখা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এটি। প্রথমে ৪০ হাজার সদস্য, পরে ১ লাখের বেশি নাম নথিভুক্ত হয়। এখন ইনস্টাগ্রামে এই সংগঠনের অনুসরণকারীর সংখ্যা ১ কোটিরও বেশি। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সিজেপির ফলোয়ার এখন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের কাছাকাছি, যেখানে বিজেপির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার প্রায় ৮৭ লাখ।
এই ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে ইতিমধ্যেই যুক্ত হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ। এছাড়াও চলচ্চিত্র জগতের একাধিক পরিচিত মুখ সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ, অভিনেত্রী কঙ্কনা সেনশর্মা, ফাতিমা সানা শেখ, ঈশা গুপ্ত এবং কৌতুকশিল্পী কুণাল কামরা। তবে সিজেপির ঘোষণাপত্রেও একাধিক রাজনৈতিক দাবি রাখা হয়েছে। যেমন, অবসরের পরে প্রধান বিচারপতিদের রাজ্যসভার আসন না দেওয়া, সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ এবং দলবদলকারীদের ২০ বছরের জন্য নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা।
নেপালে ২০২৫ সালের ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। বাংলাদেশেও ছাত্র-যুব আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। সেই কারণেই এখন অনেকের নজর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র দিকে। সোশ্যাল মিডিয়ার এই ঝড় শেষ পর্যন্ত শুধুই অনলাইন ট্রেন্ড হয়ে থাকবে, নাকি তা নেপাল ও বাংলাদেশের মতো বড় গণআন্দোলনে রূপ নেবে, এখন সেটিই দেখার।




