দিল্লিতে হুঁশিয়ারি মমতার
ছয় মাসের মধ্যেই পড়ে যাবে মোদি সরকার
- ২০২৯-এর জন্য অপেক্ষা নয়, কয়েক মাসের মধ্যেই সরকার পতনের ইঙ্গিত
- রাহুল প্রধানমন্ত্রী হলে আপত্তি নেই

ছয় মাসও টিকবে না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। দিল্লির সাংবাদিক সম্মেলনে গত বুধবার সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দাবি, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ একজোট হয়ে লড়াই করলে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। আগামী দু-চার মাস কিংবা ছয় মাসের মধ্যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের পতন হতে পারে।
একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হলে তার কোনো আপত্তি নেই বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মমতা। তার বক্তব্য, ব্যক্তিগত নেতৃত্বের প্রশ্নের চেয়ে বিজেপিকে পরাস্ত করার যৌথ লড়াই এখন বিরোধীদের কাছে প্রধান। দিল্লির ‘কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া’য় বিরোধী জোটের বৈঠক ও সাংবাদিক সম্মেলনের পর মমতার এই মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল নিয়েও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মমতার দাবি, বাংলায় তৃণমূলকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রায় ১৫০টি আসনে তৃণমূলের নির্বাচনী এজেন্টদের মারধর করে বা ভয় দেখিয়ে বুথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই আসনগুলোয় অবাধে ভোট হলে তৃণমূল জয়ী হতো বলেও দাবি করেছেন তিনি। তার বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্তের ফলেই বিজেপি ওই আসনগুলোয় জয় পেয়েছে।
নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসা নিয়েও সরব হয়েছেন মমতা। তার অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। দলীয় কর্মীদের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের প্রসঙ্গেও সরব হয়েছেন মমতা। তার অভিযোগ, দলবদলের পেছনে বিজেপির পরিকল্পনা রয়েছে। সেই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়াকে (এনসিপিআই) ব্যবহার করা হয়েছে। দলবদল এবং নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরির পেছনে বিজেপির ‘মাস্টারমাইন্ড’ কাজ করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
তবে মমতার সাংবাদিক সম্মেলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা এসেছে বিরোধী জোটের নেতৃত্বের প্রশ্নে। রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হলে তার আপত্তি নেই জানিয়ে তিনি কার্যত নেতৃত্বের প্রশ্নে নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার বক্তব্য, বিরোধীরা সবাই একসঙ্গে লড়াই করছেন। ফলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
বিরোধী জোটের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালট পেপারে ভোটের দাবিও উঠে আসে এদিন। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য বিরোধীদের অভিযোগের সঙ্গে সহমত নয়।
মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট, বিরোধী রাজনীতির পরবর্তী লড়াইকে তিনি শুধু ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছেন না। বরং কয়েক মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। যদিও মোদি সরকারের পতনের সময়সীমা নিয়ে তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক পূর্বাভাস এবং এক বিরোধী নেত্রীর দাবি হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।



