দিল্লির ভবন ধসে নিহত বেড়ে ৭, আটক মালিক

সংগৃহীত ছবি
ভারতের নয়াদিল্লির সত্য নিকেতনে বহুতল ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর রাজস্থানের বিওয়াড়ি থেকে ভবনটির মালিক হরিরাম গুপ্তকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। সোমবার সকালেই তার বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছিল ‘লুক আউট’ নোটিস।
দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে মতিবাগ এলাকায় রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ প্রবল বৃষ্টির মধ্যে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ছয়তলা ভবনটি। খবর পেয়ে প্রথমে দমকলের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে আরও কয়েকটি ইউনিটকে সেখানে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ভবনটির বেশ কয়েকটি রুম শিক্ষার্থীদের পেইং গেস্ট (পিজি) হিসেবে থাকার জন্য ব্যবহার করা হত। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় বহু শিক্ষার্থী ভবনের ভিতরে ছিলেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর অনুমান, সেখানে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে পারেন। পাশের একটি ভবনে থাকা এক শিক্ষার্থী জানান, ধসের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকজনের আর্তনাদ শুনেছিলেন।
অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর থেকেই ভবনের মালিক হরিরামের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। তার সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে অভিযান চালাতে তিন থেকে চারটি দল গঠন করা হয়। সেক্টর ২৩- এ হরিরামের মালিকানাধীন ‘হরিরাম পেইন্টস অ্যান্ড হার্ডওয়্যার’ দোকানেও তল্লাশি চালানো হয়। তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রায় ১৫ বছরের পুরনো দোকানটি দুর্ঘটনার আগের দুই দিন ধরেই তালাবন্ধ ছিল। এলাকায় হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত হরিরাম গুপ্ত। সেক্টর ২৩ এবং পালাম বিহারে একাধিক ভবন রয়েছে তার।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, পানি জমা এবং নির্মাণকাজের কারণে ভবনের ভিত দুর্বল হয়ে ধস নেমে থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই ভবন নির্মাণে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী আবাসিক ভবনের সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৭.৫ মিটার হওয়ার কথা কিন্তু ধসে পড়া বাড়িটি সেই সীমার চেয়ে উঁচু ছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
এদিকে, দুর্ঘটনায় শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও শোক প্রকাশ করে বলেছেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবন অমূল্য এবং যে কোনও পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।






